গ্রামীণ গাজন উৎসব, দাসপুর ২
বঙ্কিম মাজী
বাংলায় গাজন উৎসব শব্দের অর্থ গ্রামের জনসাধারণের উৎসব। এই উৎসবে যারা অংশগ্রহণ করেন আমাদের গ্রামীণ ভাষায় তাদের আমরা বলি ভক্ত, তা থেকে ভোক্তা, তা থেকে ভোগদা, সাধু ভাষায় সন্ন্যাসী। আবার গাজন শব্দটি ভাঙলে 'গা' অর্থাৎ গ্রাম 'জন' শব্দের অর্থ জনগণ। এক কথায় গ্রামীণ জনগণের উৎসব হওয়ায় এই উৎসবের নাম গাজন।
গাজন উৎসব মূলত গ্রামীণ কৃষি নির্ভর উৎসব। চৈত্র সংক্রান্তিতে মহাদিদেব শিবের আরাধনা সূর্য ও পৃথিবীর প্রতীকী বিবাহ, ভালো ফসলের কামনায় আয়োজিত এক প্রাচীন লোকসংস্কৃতির উৎসব। প্রচলিত আছে গাজনের সন্ন্যাসীদের হুংকার (গর্জন) এবং নৃত্যে শিব প্রসন্ন হন। যা থেকে এই উৎসবের নাম হয়েছে গাজন। সন্ন্যাসীরা গাজন উপলক্ষে নানারকম কৃচ্ছ্ব সাধন যেমন কাঁটা গোড়ানো, পিঠে কাঁটা ফুঁটানো, বঁটিঝাঁপ, জীব ফোঁড়া, আগুনের উপর হাঁটা, দোল খাওয়া ইত্যাদির মাধ্যমে শিব কে সন্তুষ্ট করে আগামী বছরের ভালো ফসলের জন্য উর্বর মাটি বৃষ্টি ও ফলনের প্রার্থনা করেন। বাংলা মাসের চৈত্রের শেষ সপ্তাহে শুরু হয় এই উৎসব। শিব নীল ও ধর্ম ঠাকুরের উপাসনার সাথে জড়িত এই উৎসবের প্রধান বাজনা হল ঢাঁক ঢোল ও কাঁসর সমন্বিত উচ্চকিত তাল বা আওয়াজ। গাজন উৎসবেরই অন্যতম একটি অংশ হলো চড়ক উৎসব। চড়ক শব্দটি এসেছে চরকি থেকে যার অর্থ ঘুর্ণন।চৈত্র মাসের শেষ দিন বা চৈত্র সংক্রান্তিতে মূল চড়ক পূজা অনুষ্ঠিত হয়। এই উৎসবে সন্ন্যাসীরা শিবের সন্তুষ্টির জন্য চড়ক গাছের উপরে আড়াআড়ি ভাবে যে কাঠ বা বাঁশ থাকে তার প্রান্তে পিঠে বা শরীরে কাপড় বেঁধে বা বঁড়শি গেঁথে বৃত্তাকারে ঘোরার মত কষ্টসাধ্য ও রোমাঞ্চকর প্রায়শ্চিত্ত বা কৃত্য সম্পন্ন করেন। এখানে চড়ক গাছ হল শিবের প্রতীক এবং যে জমিতে পোতা হয় তাকে পার্বতীর প্রতীক হিসেবে ধরা হয়।
আলোচ্য প্রবন্ধে মূল প্রতিপাদ্য হলো ঘাটাল মহকুমার অন্তর্গত দাসপুর দুই ব্লকের ১৪ টি গ্রাম পঞ্চায়েত। দাসপুর দুই ব্লকের বহু জায়গায় গাজন উৎসব পালিত হয়। দাসপুর দুই ব্লকের মূলত তিন ধরনের গাজন দেখা যায়। শিবের গাজন ( চড়ক), ধর্মরাজের গাজন, নীল মনসা সরস্বতী গাজন। উক্ত ব্লকের প্রতি গ্রামে কোন না কোন গাজন উৎসব পালিত হয়। তবে খাঞ্জাপুর, চাঁইপাট, কামালপুর, নৈহাটি, সোনাখালী অঞ্চলের গাজন গুলি বেশি জনসমাগমপূর্ণ।
কামালপুর গাজনের সম্পর্কে একটি লোককথা রয়েছে। বহু বছর আগে এই গ্রামে ভয়াবহ খরা হয়। ফসল নষ্ট হয়ে পুরো গ্রাম প্রায় ধ্বংসের মুখে পড়ে। এক রাতে গ্রামের এক বৃদ্ধ ভক্ত স্বপ্নে আরাধ্য শিবকে দেখেন, তাঁকে শিব নির্দেশ দেন গ্রামে তার গাজন করলে তবেই গ্রাম বাঁচবে পরদিন একথা সবার কানাকানি হয় এবং প্রথম গাজনের আয়োজন হয়। লোক কথা অনুযায়ী তারপরের বছরই ভালো বৃষ্টি হয় ফসলও ফলে। সেই থেকে কামালপুরের গাজন শুরু। কামালপুর অঞ্চলের বিখ্যাত গাজন ঝাউ তলায় অনুষ্ঠিত হয়। এখানে প্রায় ১০০ জনের অধিক সন্ন্যাসী থাকে। এটি হলো বৈশাখী গাজন। ২৫ শে বৈশাখের ভোরে এই গাজনের সূচনা হয়। গাজন উপলক্ষে শোভাযাত্রা হয়। ঢাক কাঁসর শঙ্খ ধ্বনি ভক্তদের নাচ (কখনো শিব পার্বতী সেজে অভিনয়) হয়। গাজন উপলক্ষে ছোট বড় বাবলা গাছ ভাঙ্গা হয়। সন্ন্যাসীরা গাছের বিভিন্ন শাখা প্রশাখায় উঠে গাছকে ধরে টেনে হিচড়ে ভাঙ্গে, এ এক অভিনব দৃশ্য। রানিচক হাইস্কুলের পাশে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের কাছেও গাজন উৎসব হয়।
খেপুত অঞ্চলের বাবা দন্ডেশ্বর গাজন টি ও বেশ প্রসিদ্ধ। চৈত্রের শেষ সপ্তাহে গাজন শুরু হয় এই উপলক্ষে কাঁটা ভাঙ্গা, মেলের জল ঢালা এবং চৈত্র সংক্রান্তিতে চড়ক উৎসব হয়। এখানে চড়কের কাঠ নিয়ে একটি গল্পগাথা রয়েছে। লোকমুখে শোনা যায় শিব পুকুর থেকে সোনাই দীঘি পর্যন্ত এই চড়কের কাঠ চলাচল করতো। এই চলাচলের সময় কেউ অজ্ঞতাবশত পুকুরে ফ্যান ফেলে দিলে সেই চড়ক কাঠ নিশ্চল বা জড় হয়ে যায়। এখানে সন্ন্যাসীর সংখ্যা প্রায় ৩০ জন। নটি বা দশটি ভোগ হয়। গাজন উপলক্ষে হৃদলা (হিজলা) সম্পর্কেও কল্প কাহিনী আছে। হৃদলার স্থল থেকে মন্দিরে প্রবেশদ্বার পর্যন্ত কোন আচ্ছাদন বা কিছু থাকবে না,এমনটাই নিয়ম। কিন্তু কোন এক ব্যক্তি এই নিয়মের তোয়াক্কা না করে মন্দির প্রবেশদ্বার ও হৃদোলার মাঝে সোজাসুজি পথে রাতে মশারি টাঙিয়ে শোবার ব্যবস্থা করে ব্যর্থ হন। শিবের সাধ্যি তো জানা নেই! পিঁপড়ের দল তার মশারির দড়ি কেটে তাকে কামড়ে সেস্থল থেকে তুলে দেয়।এখানে গাজন উপলক্ষে মেলা নানা রকম অনুষ্ঠান ও জনসমাগম ঘটে। এই অঞ্চলের নৈহাটি ফরিদপুর আরিটের গাজনেও বিশাল জনসমাগম ও উদ্দীপনা লক্ষ্য করার মতো।
পলাশপাই অঞ্চলের গুরুত্বপূর্ণ গাজন গুলি হল পলাশপাই বালিকা বিদ্যালয় সংলগ্ন গাজন, আজুড়িয়া, জোত কেশব ও জয়রামচকের গাজন। গার্লস স্কুলে গাজন উপলক্ষে চড়ক মেলা বসে। জোতকেশবেও চড়ক মেলা হয়। এই গাজনকে কেন্দ্র করে দেউল বাঁশ নিয়ে পরিক্রমণ হয়, প্রতিদ্বন্দ্বিতা ও হয়। একে বলে গাজন ভাটা। মূলত বিয়েকে কেন্দ্র করে এই গাজন ভাটা পলাশপাই আজুড়িয়া জোতকেশবের মধ্যে হয়। গাজন উপলক্ষে জিভ ফোঁড়া, মেলা ও নানা সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানও হয়।
চাইপাট অঞ্চলের হাট তলাতেই বাবা চন্দ্রেশ্বরের গাজন খুবই জাঁকজমক সহকারে হয়। শোনা যায় চন্দ্রেশ্বরের খাল কাটাই এর সময়ই বাবার এই মূর্তির খোঁজ মেলে সেই থেকেই বাবার নাম হয় চন্দ্রেশ্বর। এখানেও ৫০ থেকে ৬০ জন সন্ন্যাসী হয়। চৈত্র সংক্রান্তিতে হয় চড়ক। এখানকার গাজনের সাথে কেলে গাদার গাজন ভাটা হয়। বেশ আড়ম্বর সহযোগে বাবা চন্দ্রেশ্বরের গাজন উপলক্ষে নানা অনুষ্ঠান, চড়ক মেলা চলে।
গোছাতি অঞ্চলের সাবেকি গাজন সোনাখালিতে হয়। সোনাখালিতে গাজন উপলক্ষে আগে বহু সন্ন্যাসী হতো। এখন তা কমলেও আড়ম্বর কিছু কমেনি।১৬ ভোগের এই গাজনে একসময় যে জৌলুস ছিল এখন তেমনটা নেই। তবে এই গাজনের আড়ম্বরপূর্ণ অনুষ্ঠানে কোন ভাটা নেই। এই অঞ্চলের চককিশোর মৌজাতে গগনেশ্বর জিউএর গাজন খুবই জাঁকজমকপূর্ণ সহকারেই হয়।এটি পাঁচ ভোগের মাড়। প্রথমে হয় ব্রাহ্মণের ভোগ তারপর রাজার ভোগ মুখ্যার ভোগ প্রজার্ ভোগ ইত্যাদি। আদমপুরের সাথে এখানকার গাজনভাটা হয়। গত ১৮ তম বর্ষ ধরে এখানে চড়ক উৎসব চলছে। চড়ক উপলক্ষে কাঁটা গোড়ান, জিভ ফোঁড়া নানা অনুষ্ঠান চলে। গত ১৮ তম বর্ষ ধরে এখানে চড়ক উৎসব চলছে গাজনের নতুন আকর্ষণ অঘোরী সন্ন্যাসীদের আদলে নৃত্য এলাকার মানুষের মন কেড়েছে।
সাহাচক অঞ্চলের সাহাচক মাড়তলাতে গাজন বসে। উদয়চকের গাজনও বেশ আড়ম্বরপূর্ণ। ভুতাতেও গাজন হয় তবে চড়ক হয় না। উদয়চকের গাজনে সাজানো গোছানো ব্যাপারটি বেশ মন কাড়ে। ১০ ফুট অন্তর পাশাপাশি দুটি হিজল গাছে বাঁশবেঁধে হৃদলা হয়। জল ঢালার দিন শিবের বিবাহ পর্বটিও মজাদার। শিব মন্দির থেকে পালকিতে করে শিবের ফটোচিত্র সমন্বিত সুসজ্জিত পালকি ভক্তরা বাদ্যি বাজনা সহযোগে নৃত্য করতে করতে গ্রাম পরিক্রমনে চলে। প্রায় দেড়শতাধিক মানুষ সাথে থাকে। ওই গ্রামে সম্ভ্রান্ত দু তিনটি বাড়ি যেখানে দুর্গাপূজা হয় সেই বাড়িতে পালকি যায়। কোথাও দেড়শ মানুষের টিফিন এবং কোথাও বা দেড়শ মানুষের জন্য নিরামিশ নৈশভোজের ব্যবস্থা করা হয় ওই সম্ভ্রান্ত বাড়ির পক্ষ থেকে। গাজন কে কেন্দ্র করে শিবের বিবাহ উপলক্ষে গ্রামবাসীর মনে একটা আলাদা উন্মাদনা তৈরি হয়। প্রসঙ্গত উল্লেখ্য এখানকার গাজনের সাথে জোত ঘনশ্যাম অঞ্চলের ডোঙ্গাভাঙ্গা গ্রামের গাজনের শিবের বিবাহ উপলক্ষে প্রায় পাঁচশতাধিক মানুষ ভোগগ্রহণ করে থাকে। এই উপলক্ষে শিবসম্পর্কিত আখ্যান পৌরাণিক কাহিনি আকারে প্রায় চার,পাঁচটা সুসজ্জিত মঞ্চে নৃত্য গান ও নাটকের আকারে পরিবেশিত হয়। এলাকার মানুষ এই কয়েকদিন এক উৎসবের আনন্দে থাকে।
খাঞ্জাপুর অঞ্চলের গোপালপুর ও রামনগর দুটি জায়গার গাজন বেশ বিখ্যাত। গোপালপুরের গাজনও কোন অংশে কম নয়। বেশ আড়ম্বরপূর্ণ। সাধারণত চৈত্রের শেষ সপ্তাহে গাজন ওঠে। প্রথম দিন দুই একজন সন্ন্যাসী হয়,পরে পরে সন্ন্যাসীর সংখ্যা বাড়তে থাকে। ১৫ থেকে ১৬ জন সন্ন্যাসী হয়। উল্লেখ্য এখানে মহিলারাও সন্ন্যাসী হয়। দেউল বাঁশ নিয়ে গ্রাম বেড়ানো ভোগ মুুদা হয়। কোনদিন বড় ভোগ, কোনদিন গুড়ান ভোগ হয়। ২৪ শে চৈত্র সন্ধ্যায় কাঁটাভাঙ্গা ও গড়ানো হয়, ঢাকের তালে তালে বেতখেলা হয়, নৃত্য ও ধুনা সেবা হয়! ২৭ চৈত্র সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত ছেলে ও মেয়েরা রানী পুষ্করিণী জলে ডুব দিয়ে ঘটিতে জল ডাব ও দুধ নিয়ে শিবলিঙ্গের মাথায় ঢালে। ৩০ শে চৈত্র সংক্রান্তিতে সন্ন্যাসী ও অন্য ছেলে মেয়ে এবং যারা মানত রাখেন সকলেই পুষ্করিণী থেকে দন্ডি কেটে মন্দিরে তিন পাক বেষ্টন করেন এবং মন্দিরে প্রবেশ করেন। তারপর হৃদোলা ও ধুনা পোড়ানো হয়, প্রসাদ বিতরণ হয়।এরপরে চলে চড়ক এবং এই উপলক্ষে জিভফোঁড়া ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান হয়। রামনগরের গাজন উপলক্ষে নানাবিধ অনুষ্ঠান হয়। জিভ ফোঁড়ার বদলে এখানে সাপ ফোঁড়ার মত ভয়াবহ খেলাটি দেখে শিহরিত হতেই হয়।
গৌরা অঞ্চলের অনেকগুলি গাজনের মধ্যে শ্যামচক ও রামপুরের গাজন প্রসিদ্ধ। তবে এগুলি বৈশাখী গাজন। শ্যামচকের বাবার নাম বৈদ্যনাথ পঁচিশে বৈশাখ গাজন শুরু ৩১ শে বৈশাখ শেষ। পূর্বে গাজনে সন্ন্যাসীর ৩০ /৪০ জনের মতো হলেও বর্তমানে ১৮ থেকে ২০ জনের বেশি হয় না। এই অঞ্চলেরই রামপুরের গাজনের সাথে দেউলবাঁশের প্রতিযোগিতা ও গাজন ভাটা হয়। জল ঢালার দিন ব্রতী সন্ন্যাসীদের কয়েকজনকে ছেড়ে দেওয়া হয়। তারা অন্যের জমি থেকে কলা, পুঁইশাক কাঁঠাল ইত্যাদি চুরি করে আনবে। ওই সময়কালে বাকি সন্ন্যাসীরা মন্দির চত্বরে নৃত্যরত উন্মাদ অবস্থায় থাকবে। ভোর বেলায় তাদের ধরে মন্দিরে রাখা হবে। গাজন উপলক্ষে প্রতিদিনই ভোগ মুদা হয়। প্রথমে ভোগ মুদা হবে ব্রাহ্মনের, তারপর রাজার।রাজার এক কাহিনী আছে কোন এক পূর্বপুরুষের আমলে এক চাষী হাল করে ফিরতে গিয়ে বিশ্রামের জন্য গাছের তলায় বসে পড়ে। হালের সরঞ্জাম ফেলে আসায় পরের দিন সেখানে গিয়ে দেখে একটি বড় পাথর। অবাক বিস্ময়ে সেই ভারি পাথরটি বাড়িতে আনতে গিয়ে (বর্তমানে যেখানে মন্দির) কষ্ট লাঘবের জন্য রেখে দেয়। কথিত আছে তার পর আর সে পাথরকে নাড়ানো যায়নি। সেই থেকে বাবা বৈদ্যনাথের স্থান এখানেই শুরু হয়,গাজনও হয়। যে পরিবারের ব্যক্তি ওই পাথর এনেছিলেন তাদের বাড়ির ভোগই হল রাজার ভোগ। রাজার পরে ভোগ মুদা হয় গ্রামের বড়মূখ্যার। তারপর মেজো মুখ্যার। এভাবেই সম্মানের ভিত্তিতে ভোগ মুদার কাজ চলে। ভোগমুদা প্রতিদিনই হয় ক্রমশ শেষের দিকে তা বাড়তে থাকে। প্রথম দিন হয়তো দুপাল্টা দ্বিতীয় দিন তিন পাল্টা এভাবে সাত পাল্টা পর্যন্ত ভোগ মুদা হয়। ভোগমুদার পরে রান্না হয় গভীর রাতে। সন্ন্যাসীরা ছাড়া ওই সময়ে বাইরের কাকপক্ষীও যাতে টের না পায় তার জন্য আশে পাশের রাস্তাঘাট সিল বা বন্ধ করে দেওয়া হয়। গাজন উপলক্ষে কাঁটা গোড়ানো, পর দিন ভোরবেলা আকন্দ ঘর (আগে থেকেই আকন্দ গাছ দিয়ে সুসজ্জিত চালাঘর তৈরি করা হয়) পোড়ানো হয়।বাবা বৈদ্যনাথ এর নামে জমি বিভিন্ন সম্প্রদায়ের মানুষজন বছরভর চাষ করে থাকেন। বিনিময়ে গাজনের সময় তাদের করণীয় কর্তব্য ও সাহায্য সহযোগিতা করতে হয়।
পরিশেষে বলা যায় গাজন পশ্চিমবাংলার এক জনপ্রিয় ঐতিহ্যবাহী ধর্মীয় উৎসব। শিবের সন্তুষ্টি বিধানের মাধ্যমে বিভিন্ন ত্যাগ সাধনা উপোস আসলে নিজেদের শুদ্ধি ও আত্মিক উন্নতিও বটে। উৎসবের শেষে ভক্তরা নিজেদের আধ্যাতিক চেতনা ও শ্রদ্ধার সাথে পূজা সম্পন্ন করে তাদের জীবনের এক নতুন উদ্যমকে জাগিয়ে তোলে। গাজন কেবলমাত্র ধর্মীয় উৎসবই নয়। এটি একটি সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য ও বহন করে। গ্রামের সকল ধর্মের মানুষজন এই উৎসবে একত্রিত হয়ে আনন্দ ও শ্রদ্ধার সাথে উৎসব পালন করে যা গ্রামীণ জীবনের ঐক্য ও সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির জাগ্রত উদাহরণও বটে।
....................
সম্পাদক - দুঃখানন্দ মণ্ডল
সহ সম্পাদক - শ্রীজিৎ জানা
কথা - ৯৪৩৪৪৫৩৬১৪



























