Tuesday, 17 March 2026

পশ্চিম মেদিনীপুরের গাজন ও গাজন মেলা - পর্ব ১

 


রসকুণ্ডুকে মহিমান্বিত করেছে বাবা বসন্ত রায় জীউ ও তার গাজন মেলা

মঙ্গলপ্রসাদ মাইতি


   রাঢ় বাংলার অন্যতম তীর্থ জনপদ হল রসকুণ্ডু। বর্ধিষ্ণু এই গ্রামটি পশ্চিম মেদিনীপুর জেলার গড়বেতা–৩ ব্লকের মধ্যে অবস্থিত। এই গ্রামটি বর্তমানে সর্বজনবিদিত যে কারণে তা হল এখানে বাবা বসন্ত রায় জীউ-এর মন্দির আছে। এই মন্দিরে দেবাদিদেব মহেশ্বর বা শিব ‘বাবা বসন্ত রায় জীউ’ নামে বিরাজ করেন এবং পূজিত হন। বাবা বসন্ত রায় জীউ-এর  অপার কৃপা ও করুণাধারায় নিত্যদিন সিক্ত হচ্ছে রসকুণ্ডুর পবিত্র মাটি। প্রেম ও ভক্তিরসে পরিপূর্ণ  হয়ে বাবা বসন্ত রায়ের লীলাক্ষেত্র হয়ে উঠেছে এই অঞ্চল। বহুকাল ধরে হাজার হাজার মানুষ এখানে অধিষ্ঠিত জাগ্রত দেবতা এই শিব অর্থাত্‍ মহেশ্বরের চরণে নিজেদের নিবেদন করে সুখ-ও শান্তি অনুভব করে আসছেন। বিস্তীর্ণ অঞ্চলের মানুষ এই দেবতাকে একেবারে কাছের জন বলে মনে করেন। প্রতিদিন শ’য়ে শ’য়ে পুণ্যার্থী এখানে আসেন এবং ভক্তিভরে পুজো দিয়ে বাবার কৃপা লাভ করেন। ‘টেরাকোটা’ পত্রিকার সম্পাদক তুলসীদাস মাইতি বাবা বসন্ত রায়ের চরণাশ্রিতা ভক্তিমতী কাঞ্চন পাল-এর “গীতি অর্ঘ্য : নম: বাবা বসন্ত রায়’ গ্রন্থের প্রাক-কথন লিখতে গিয়ে বলেছেন – “শিব বাঙালির খুব কাছের জন। ঘরের মেয়ে উমা, মেনকার জামাতা। একই সঙ্গে আদরের আবার গঞ্জনারও পাত্র, একাধারে ভোলানাথ আশুতোষ  আবার প্রলয়ঙ্করী রুদ্র, শ্মশানচারী ভূতনাথ আবার শিবসুন্দর মহাদেব সর্বমঙ্গলময় দেবাদিদেব। তাঁর পূজায় খুব বেশি নিয়মকানুন, মন্ত্র-তন্ত্র না করলেও চলে। সেজন্য সহজ-সরল-অশিক্ষিত-অর্ধশিক্ষিত আপামর  স্ত্রী-পুরুষের কাছে বিশেষ প্রিয় তিনি। তাঁর মন্দির সকলের জন্যই অবারিত। প্রকৃত প্রস্তাবে রসকুণ্ডুতে অধিষ্ঠিত দেবাদিদেব বসন্ত রায় মানুষের কাছের দেবতা হিসেবেই প্রকাশিত। পৌরাণিক ও লৌকিক নানান কাহিনি ও কর্মকাণ্ডের সঙ্গে এই ক্ষেত্রটি এক চলমান ইতিহাসের ধারার মতো বয়ে চলেছে।”

   শিব মন্দির থাকবে আর সেখানে অনুষ্ঠান-মেলা-পার্বণ হবে না তা তো নয়। সারা বছর ধরে এই রসকুণ্ডুর বাবা বসন্ত রায়ের মন্দির স্থলে বিভিন্ন পূজার্চনা ও ক্রিয়ানুষ্ঠান চলে। বিশেষ করে শ্রাবণমাসে ভক্তদের জলঢালা দেখার মতো। শিব চতুর্দশীতেও বিরাট মেলা বসে। তবে সব অনুষ্ঠানকে ছাপিয়ে বিশেষ করে জায়গা করে নিয়েছে এখানকার গাজন মেলা। বাবা বসন্ত রায় জীউকে কেন্দ্র এখানে যে গাজন মেলা বসে তা অত্যন্ত জাঁকজমকপূর্ণ। গড়বেতা-১, গড়বেতা-২ এবং গড়বেতা-৩ ব্লক নিয়ে গড়বেতা। এই তিনটি ব্লকের মধ্যে যত যেখানে শিবের গাজন ও মেলা অনুষ্ঠিত হয় তার মধ্যে অন্যতম শ্রেষ্ঠ রসকুণ্ডুর এই গাজন মেলা। ভারতবর্ষের পশ্চিমবঙ্গ এবং ওপার বাংলার বাংলাদেশে যে গাজনমেলাগুলি ইতিহাসের পাতায় স্থান করে নিয়েছে এবং বিশেষ পরিচিতি লাভ করেছে তার মধ্যে এই রসকুণ্ডুর গাজন মেলাও একটি। এখানকার এই মেলাকে কেন্দ্র করে হাজার ছাড়িয়ে লক্ষ লক্ষ লোকের সমাগম ঘটে। শুধু গলায় উত্তরীয় নিয়ে বাবার সন্ন্যাস বা ভক্তের সংখ্যাই হয় পনেরো থেকে কুড়ি হাজার। আর বছর বছর এই ভক্তের সংখ্যা বেড়েই চলেছে। গাজন মেলার ক’দিন হাজার হাজার পুণ্যার্থীর সমাগমে রসকুণ্ডু ও আশেপাশের গ্রামগুলির আকাশবাতাস সরগরম হয়ে উঠে। মন্দির এবং মন্দির চত্বর বিভিন্ন রঙ, ফুল ও আলোকমালায় সুসজ্জিত হয়ে উঠে।   

গাজন মেলা হল গ্রাম্য লৌকিক উত্‍সব। গা অর্থাত্‍ গাঁ(গ্রাম) এবং জন অর্থাত্‍ জনগণ। গ্রামের জনগণের মিলন মেলা হল গাজন। প্রচলিত এই ধারণার সম্যক রূপটি ধরা পড়ে রসকুণ্ডুর বাবা বসন্ত রায় জীউ-এর গাজন মেলায়। পশ্চিম মেদিনীপুর, পূর্ব মেদিনীপুর এই দুই মেদিনীপুরের গড়বেতা, চন্দ্রকোনা, রামজীবনপুর, শালবনী, কেশপুর, ঘাটাল সহ হুগলি, বাঁকুড়া জেলার জয়পুর, আরামবাগ, গোঘাট, কোতুলপুর, ময়নাপুর  ইত্যাদি ব্লকের অসংখ্য গ্রামের মানুষের মধ্যে এই বাবা বসন্ত রায়ের গাজন মেলাকে কেন্দ্র করে যে বিপুল উত্‍সাহ-উদ্দীপনা ও আনন্দ লক্ষ্য করা যায় তা এককথায় অনবদ্য। গড়বেতা ও চন্দ্রকোনা শহরের মধ্যর্বতী অঞ্চল হল এই রসকুণ্ডু। গাজন মেলার সময়ের চার পাঁচদিন এলাকার  রাস্তাঘাটগুলিতে  বাবার ভক্ত ও পুণ্যার্থীদের ঢল নামতে দেখা যায়। রসকুণ্ডু মন্দিরের চারপাশ জুড়ে তিন-চার কিলোমিটার দূর পর্যন্ত সার সার মোটর সাইকেল, সাইকেল, মারুতি, ভ্যানরিক্সা, অটো, টোটো, ট্যাক্সিতে ছয়লাপ হয়ে যায় যে মেলাতে প্রবেশ করাই দু:সাধ্য হয়ে পড়ে। বাবা বসন্ত রায়ের একটুখানি কৃপা ও দয়া পেতে কাতারে কাতারে মানুষ এই বসন্ত রায়ের গাজন মেলাতে ছুটে আসেন। এলাকার হিন্দু সম্প্রদায়ের এমন কোনো বাড়ি নেই যে সেই  বাড়ির সদস্য একবারও ভক্ত বা সন্ন্যাসী হয়নি। অনেকে আবার বছর বছর সন্ন্যাস বা ভক্ত হয়ে থাকেন। এ এক আশ্চর্য মহিমা বাবা বসন্ত রায়ের। 

   বাবা বসন্ত রায জীউ-এর র গাজন মেলা অনুষ্ঠিত হয় চৈত্র সংক্রান্তিতে। আর পাঁচটা চৈত্র সংক্রান্তির গাজন মেলার মতোই। বাংলা চৈত্র মাসের শেষ সপ্তাহ থেকে শুরু হয় এবং চৈত্র সংক্রান্তিতে শেষ হয়। রেশ থেকে যায় ১লা বৈশাখ পর্যন্ত। মূলত শিবের পুজোকে ঘিরেই বাবা বসন্ত রায়ের গাজন মেলা। গলায় উত্তরীয় নিয়ে শিবের ভক্ত সাজে বা সন্ন্যাসী হয় হাজার হাজার। শুধু পুরুষ ভক্ত নয় অসংখ্য মহিলাও শিবের ভক্ত হয়। বছর বছর মহিলা ভক্তের সংখ্যা বেড়েই চলেছে। তাই নারী-পুরুষ নির্বিশেষে যে কেউ এখানে সন্ন্যাসী বা সন্ন্যাসিনী হতে পারে।  দীর্ঘদিন ধরে রসকুণ্ডুর এই গাজন মেলায় পূজার্চনার কাজ করে আসছেন এখানকার বিখ্যাত পলসাঁই বংশধরগণ। কথিত এই পলসাঁই বংশেরই কোনও একজন স্বপ্নাদিষ্ট হয়ে বহুকাল আগে প্রথম পুজো শুরু করেন। জনশ্রুতি ও বিভিন্ন লোক কাহিনি থেকে জানা যায় এই রসকুণ্ডু অঞ্চলটি একসময় জঙ্গলাকীর্ণ ছিল। মানুষজনের তেমন যাতায়াত ছিল না। রাখাল বালকেরা এই জঙ্গলে গরু চরাতে আসত। তারই একজনের একটি দুধেল গাভীর কাছ থেকে বেশ কিছুদিন ধরে দুধ মিলছিল না। বলা যেতে পারে দুধ চুরি হয়ে যাচ্ছিল। গাভীর কাছ দুধ না মেলায় সেই রাখালের মালিক রাখালকে খুব বকাঝকা করতে থাকে। রাখাল কোনো সদুত্তর দিতে পারে না। এরপর গাভীর দুধ কোথায় যাচ্ছে গোপনে তা দেখার জন্য কয়েকজন গাভীর পিছু নেয়। তারা দেখতে পায় ওই গাভীটি গভীর জঙ্গলে গিয়ে লতাপাতায় ঢাকা একটি কালো শিবলিঙ্গের কাছে দাঁড়িয়েছে এবং গাভীটির বাঁট থেকে অঝোরে দুধ ঝরে যাচ্ছে। এরপর পলসাঁই বংশের একজন এই শিবলিঙ্গকে স্বপ্ন দেখেন। অনুমান করা হচ্ছে সম্ভবত তিনিই স্বপ্নাদেশ পেয়ে এখানে শিবের পুজো শুরু করেন। বাঁশ-কাঠ, খড় আর মাটি দিয়ে প্রথম মন্দির নির্মিত হয়। ইনিই হলেন বাবা বসন্ত রায় জীউ। এই সুত্র ধরে আরও জানা যায় একসময় এই মন্দির ছিল পুরোপুরি পলসাঁই বংশেরই। পরে রসকুণ্ডু গ্রামবাসীদের অধীনে আসে। কিন্তু পুজোর দায়িত্ব পান ঐ পলসাঁই বংশ। পুজোর দায়িত্ব ছাড়াও এখনো মন্দিরের একটা অংশ পলসাঁইদের অধীনে আছে। গাজন মেলার মূল দায়িত্ব পালন করেন যখন যিনি বাবা বসন্তরায়ের নিত্য পূজার দায়িত্বে থাকেন। বর্তমানে বাবা বসন্ত রায়ের পূজারি বা সেবাইত আছেন মৃণালকান্তি পলসাঁই। তিনি বসন্ত রায় জীউ এর পুজো যেমন করেন তেমনই অদূরেই আছে শ্রী শ্রী শ্যামামায়ের মন্দির তারও পুজো করেন। শিবের পাশাপাশি তাই শক্তিদায়িনী দেবী কালী মাও বিরাজ করছেন। একই সঙ্গে শিব ও শক্তির আরাধনা চলে এই বসন্ত রায়ের মন্দির চত্বরে। শিব ও শক্তির একটি অপূর্ব মিলন স্থল হিসাবেই গণ্য এই রসকুণ্ডু অঞ্চলটি।  

   রসকুণ্ডুতে বাবা বসন্ত রায় জীউ এর আবির্ভাব কখন ঘটেছিল তা সঠিকভাবে জানা যায়নি অনুমান করা হচ্ছে প্রায় চারশো থেকে সাড়ে চারশো বেশি সময় ধরে বাবা দেবাদিদেব মহেশ্বর এখানে পূজিত হচ্ছেন। তা যাই হোক বাবা বসন্ত রায়ের মন্দির অনেক প্রাচীন। আর সুদীর্ঘকাল ধরে এখানে গাজন মেলাও অনুষ্ঠিত হয়ে আসছে। এখানকার গাজনের নিয়ম-নীতি আচার অনুষ্ঠান সম্পর্কে অনেক কথাই জানালেন মন্দিরের বর্তমান পুরোহিত শ্রী মৃণালকান্তি পলসাঁই মহাশয়। রসকুণ্ডুর গাজন মেলার ঢাকের কাঠি পড়ে যায় ঘেঁটু সংক্রান্তি থেকেই। চৈত্র মাসের ২১ কিংবা ২২ তারিখে শনিবার বা মঙ্গলবার দেখে  কামিল্যা পূজার ঘটস্থাপন শুরু হয়। চলতি কথায় যাকে ক্যামলা উঠা বলে। এটাই গাজনের সূচনা। এরপর ২৫ শে চৈত্র একজন বাবার পাটভক্ত হন। তারপরে ২৭ শে চৈত্র দেউল ভক্ত হন। পাটভক্ত যিনি হন তাঁর গলাতে উত্তরীয় প্রথমেই পরিয়ে দেওয়া হয় না। সেটা সংকল্প করে তুলে রাখা হয়। এর কারণ হচ্ছে এখানে বসন্ত রায় জীউ-এর গাজনে অসংখ্য সাধারণ ভক্ত হন। সাধারণ ভক্তদের আবার অনেকেই এখানে উত্তরীয় নিয়ে তাঁরা পছন্দমতো নিজের এলাকায় অন্য কোনো শিবের মন্দিরে ভক্ত হয়ে থাকেন। এবং সেখানকার নিয়ম-নীতি-আচার-অনুষ্ঠান পালন করেন। এদের মধ্যে আবার কেউ কেউ নিয়ম ভঙ্গের দিন এখানে এসে পুরোহিতের মাধ্যমে গলার উত্তরীয় খুলে দেন। পাট ভক্ত হওয়ার পর থেকে সাধারণ  ভক্ত হওয়ার ভিড় পড়ে যায়। তাঁরা সকলেই নিজের নিজের গোত্র ছেড়ে শিবগোত্র ধারণ করেন। সকলের গলায় থাকে উত্তরীয়, পরনে ধুতি এবং হাতে বেতের তৈরি লাঠি। ২৮ চৈত্র সবশেষে হন রাজার ভক্ত। এই রাজার ভক্ত যারা সাধারণ ভক্ত হতে ইচ্ছুক থাকেন সকলকে ডেকেডুকে নিয়ে  বাবার মন্দিরে হাজির করান। রাজার ভক্ত একবার হয়ে গেলে আর সে বছর কোনো সাধারণ ভক্ত হওয়া যাবে না এটাই এখানকার নিয়ম। রাজার ভক্তই শেষ ভক্ত হিসাবে গলায় উত্তরীয় পরিধান করেন। তাহলে দেখা যাচ্ছে এই বাবা বসন্ত রায়ের গাজন মেলায় চার রকম ভক্ত থাকেন। তাঁরা হলেন পাটভক্ত, দেউল ভক্ত, রাজার ভক্ত এবং সাধারণ ভক্ত। 

   গাজনকে কেন্দ্র করে বিশেষ কিছু  ক্রিয়াকলাপ ও আচার অনুষ্ঠান হয়ে থাকে। এগুলো এখানে পালন করতেই হবে। এটাই এখানকার নিয়ম। প্রথম দিন আলম কাটা। এই আলম কাটা ঘটকদের বাড়ির কাছে বলা যেতে পারে বাবার নিজস্ব যে পুষ্করিণী বা বড়ো দিঘিটি আছে তার বায়ু কোণে একটি বাঁশঝাড় আছে সেখানে গিয়ে একটি বাঁশ কাটা হয়। সেই বাঁশটির মাথায় গাজনের পতাকা বাঁধা হয়। সেই পতাকা বাঁধা বাঁশটি নিয়ে ভক্তরা বাদ্যবাজনা সহযোগে নাচ করতে করতে মন্দিরে নিয়ে আসেন। এটি পুজো দিয়ে  মন্দিরের এক কোণে ঠেসিয়ে রাখা হয়।  একে বলে আলম কাটা। ওইদিন সন্ধ্যার ঠিক আগে সূর্যপূজা হয়। তারপরে হয় হরগৌরীর পুজো। সারি সারি ভক্তরা বসে পড়েন। মন্ত্র উচ্চারণ করেন। হরগৌরী পূজা শেষে হ্যাদোলা শুরু হয়। মনের মধ্যে অনির্বচনীয় এক আনন্দ নিয়ে ভক্তদের অনেকেই সেই হ্যাদোলাতে দুলতে থাকেন। রাত বারোটায় ওইদিনের গাজন শেষ হয়। 

   পরের দিন হল গামার কাটার পালা। রসকুণ্ডু গ্রামের উত্তর পাড়ায় আছে একটি গামার গাছ। ভক্তরা সেখানে যান । গামার গাছের একটি ডাল কেটে তাকে পতাকার মতো করে নিয়ে আসেন মন্দিরস্থলে। এদিনও আগের দিনের মতো সূর্য পূজা হয়। হরগৌরীর পুজো শেষে ভক্তরা হ্যাদোলাতে দুলে আনন্দ উপভোগ করেন। পরের দিন মেল ও রাত গাজন। মেল বলতে বোঝায় শিবের মাথায় জল ঢালা। রসকুণ্ডু গাজনে মেল ও জলঢালা একটা বিরাট ব্যাপর। জলঢালাকে ঘিরে ব্যাপক আনন্দ ও উদ্দীপনা লক্ষ্য করা যায় এদিন মন্দির স্থলে। ভক্তদের জলঢালা তো আছেই সেইসঙ্গে আশেপাশের গ্রামগুলি থেকে বাবার মাথায় জল ঢালতে আসেন পুণ্যার্থীরা। মহিলা পুণ্যার্থীর সংখ্যা চমকে দেওয়ার মতো। দেবাদিদেব মহাদেব বাবা বসন্ত রায়ের একটুখানি কৃপা ও দয়া লাভের আশায় পুণ্যার্থীদের ছুটে আসা। সংসারের সুখ-শান্তি লাভ, সন্তানের মঙ্গলকামনা করেন শিবের কাছে। এদিন প্রথমে পুরোহিত, ভক্তরা জল ঢালেন। তারপর সাধারণ ভক্ত ও সাধারণ পুণ্যার্থী। জল ঢালাকে কেন্দ্র করে ব্যাপক ভিড় ও জমায়েত লক্ষ্য করা যায়। একেবারে হুড়োহুড়ি পড়ে যায়। একটি নির্দিষ্ট পথ আছে সেই পথ দিয়ে শিবের মাথায় ঢালা ঘটি ঘটি জল বেরিয়ে যায়। ভক্ত ও পুণ্যার্থীরা শ্রদ্ধাবনত চিত্তে, শুদ্ধ বস্ত্র পরে ঘটি ভরে জল নিয়ে এসে বাবর মাথায় ঢালেন। মন্দিরের পিছনে উত্তরদিকে ৫০ মিটার দূরে বাবার নিজস্ব পুষ্করিণী আছে সেই পুকুর থেকে স্নান করে জল নেন ভক্তরা। সকাল থেকেই ভিড়ে ঠাসা হয়ে যায় মন্দির চত্বর। মেলের দিনই রাত্রিতে রাত গাজন। বিকাল থেকেই শুরু হয়ে যায় সূর্যপূজা। তারপর হরগৌরীর পূজা। রাত দশটার পর থেকে আদাগা ভক্তদের দাগার কাজ শুরু হয়। আদাগা ভক্ত বলতে যারা এর আগে কোথাও কোনো শিব মন্দিরে ভক্ত হয়নি। এই প্রথম ভক্ত হয়েছে। তাদের দাগা হয়। কাকেও আমপাতা গরম করে দাগা হয়, কাউকে গরম ধুনোচুর দিয়ে দাগা হয়। যে যেমনটি চায় সেই মতো দাগা হয়। দেগে দেওয়া ভক্তদের মাথা ঢেকে মন্দিরের চারপাশ ঘোরানো হয়। ভক্তের বাড়ির লোকজন বা তার আত্মীয় স্বজনেরা এই ভক্ত ঘোরানোর কাজটি করে থাকেন।

   ভক্তরা এরপর হ্যাদোলাতে দুলতে থাকেন। মাথা নিচু করে উপর দিকে পা বেঁধে হ্যাদলা দুলানো। নিচে ধুনোর আগুন জ্বলতে থাকে। অনেকে হ্যাদোলা দুলতে ভীষণ পছন্দ করেন। হ্যাদোলা থেকেই নামতেই চান না। অনেকে আবার ভয়ে কুঁকড়ে যায়। ওদিকে মহাদেবের ষোড়শপোচারে ব্যস্ত থাকেন পুরোহিত মশাই। ‘জয় বাবা বসন্ত রায়’, ‘বাবা বসন্ত রায়ের চরণে সেবা লাগে-মহাদেব’ এই সব জয়ধ্বনিতে সারা গাজন মেলা প্রাঙ্গণ সরগরম হয়ে উঠে। রাত তিনটা পর্যন্ত এই রাত গাজন চলে। একই সঙ্গে চলে ধুনুচি নাচ। এই গাজনের ক’টা দিন প্রতিটি ভক্তকেই হবিষ্যান্ন রান্না করে খেতে হয়। নিজের হাতেই মাটির সরা বা  মাটির হাঁড়িতে এই রান্না করতে হয়। মেলের দিন সন্ধেবেলা আর একটা অনুষ্ঠানের রীতি আছে যা চিরাচরিত প্রথা হিসাবেই পালন করে আসা হচ্ছে। তা হল কোনো জিওল মাছ বিশেষ করে মাগুর মাছ এনে তার পুজো দেওয়া হয়। এবং এই মাছটি নির্দিষ্ট একটি যন্ত্র আছে মন্দিরের সেখানে বিশেষ পদ্ধতিতে রাখা হয়। এমনভাবে রাখা হয় যাতে মাছটি মরে না যায়। এই মাছটি বিশেষ একজন জেলের কাছ থেকে সংগ্রহ করা হয় যিনি একডুবে এই মাছটি পুকুর বা খাল-নদী থেকে ধরে এনেছেন। মাগুর মাছ না পাওয়া গেলে অন্য কোনো জিওল মাছ  ধরে আনা হয়। রাত গাজনের দিন রাত্রিবেলা বাজি পোড়ানো হয় নির্দিষ্ট দিঘিতে। পাশের রাজ্য ওড়িষ্যা থেকে দীর্ঘদিন ধরে বাজি কারিগররা আসেন এবং বাজি খেলার কেরামতি দেখান। প্রতিযোগিতা ভিত্তিক এই বাজি পোড়ানো হয়। উড়িষ্যা ছাড়াও হুগলী জেলার কয়াপাট, বদনগঞ্জ, ফুলুই, তাতারপুর প্রভৃতি গ্রাম থেকেও অনেক বাজি কারিগররা এসে থাকেন এবং বাজি পোড়ানো প্রতিযোগিতায় অংশ নেন। আসাবধান হলে বিপদও ঘটতে পারে।  

    রাত গাজন শেষে আসে দিন গাজন। দিন গাজন শুরু হয় আগুন সন্ন্যাস দিয়ে। আগুন সন্ন্যাসও একটি মজার অনুষ্ঠান। শ্মশানে যাদের দাহ করা হয় সেখানে অনেক আধপড়া কাঠ বা অব্যবহৃত কাঠ পরে থাকে। সাহসী ভক্তরা সেই কাঠ নিয়ে এসে কামদেবকে স্মরণ করে তাকে দাহ করা হয়। রীতিমতো চিতা সাজানো হয়। সেই চিতার আগুনকে সামনে রেখে ঢাক ও নানারকমের  বাদ্যযন্ত্র বাজানো হয়। বিশেষ করে ঢাকিরা ঢাকের মাধ্যমে নানারকম ক্রিয়াকৌশল প্রদর্শন করতে থাকে। গাজনের মূল বাজনা হল এই ঢাক। কোনও বাজনা না হলেও চলবে কিন্তু ঢাক থাকতেই হবে। ঢাকের তালে তালে ভক্তবৃন্দের দল সেই চিতার আগুনকে নিয়ে খেলা করতে থাকে। কেউ গনগনে আগুন কাঠের অঙ্গার হাতে নিয়ে নানান কসরত করতে থাকে, কেউ গনগনে অঙ্গার দিয়ে হাঁটতে থাকে। সে এক মজার আগুন সন্ন্যাস খেলা। আগুন সন্ন্যাস শেষ হয়ে গেলে প্রতিদিনকার মত বিকালে পুজোয় মত্ত হয়। হরগৌরীর পুজো শেষে ভক্তেরা বাবার পুকুরে স্নান করে প্রণাম সেবা খাটে, যাকে দন্ডি কাটা বলে। দন্ডি কাটার সময় সে এক বিরাট ব্যাপার। পুরো মন্দির চত্বরে হুলস্থুল পড়ে যায়। ঢাক অন্যান্য বাদ্যযন্ত্র তুমুলভাবে বাজতে থাকে। হরগৌরীর মন্দির ও বাবা বসন্ত রায় মন্দিরকে মাঝে রেখে তিনবার প্রদক্ষিণ করে প্রণাম সেবা খাটা ভক্তবৃন্দের দল। ভক্তদের অনেকেই খুব তাড়াতাড়ি এই কাজটি শেষ করে। অনেকে প্রণাম সেবা খাটতে খাটতে রাস্তার মধ্যে শুয়ে থাকে উঠতে চায় না। অনেকে ঢাক ও অন্যান্য বাজনার সঙ্গে সঙ্গে বিভোর হয়ে নাচতে থাকে নাচতেই থাকে। যতক্ষণ পর্যন্ত সকল ভক্তবৃন্দের দন্ডি খাটা বা প্রণাম সেবা খাটা শেষ না হয় ততক্ষণ পর্যন্ত গাজনের অন্যান্য পুজোর কাজ শুরু করা যায় না। তাই কমিটির তরফ থেকে তাড়া দেওয়া হয় যাতে ভক্তবৃন্দ প্রণাম সেবা খাতার কাজটি দ্রুত সম্পন্ন করেন। ভক্তদের প্রণাম সেবা খাটা শেষ হলে তাঁরা আবার পুকুরে স্নান করে ঘটি ভরে জল নিয়ে বাবার মাথায় ঢালেন। এরপর পুরোহিত তাঁকে স্নান জল খাওয়ান। এরপর মন্দিরের কাউন্টার থেকে গুড় ছোলা সংগ্রহ তা খেয়ে নিয়মভঙ্গ করেন। এইদিন রাত্রে ভক্তরা নিরামিষ রান্না ভাত খান। এইভাবে দিন গাজন শেষ হয়। এইদিনটি হল ৩০শে চৈত্র। পরের দিন ১লা বৈশাখ নতুন বছরের দিন ভক্তরা দাঁড়ি কেটে, গায়ে হলুদ মেখে স্নান করেন। এই দিন হয় আঁশ পাটনা। মন্দিরের নিজস্ব ব্যবস্থায় সমস্ত ভক্তকে মাছ রান্না ভাত খাওয়ানো হয়। রসকুণ্ডু গ্রামবাসী বিশাল এই কর্মকাণ্ডে সহযোগিতা করেন। বিপুল সংখ্যক ভক্তকে মাছ ভাত খাওয়াতে প্রায় ৪০ কুইণ্ট্যল মাছ লাগে। এই এত পরিমাণ মাছ বাবার নিজস্ব পুকুর থেকে ধরা হয়। অন্য জায়গা থেকেও কিছু কেনা হয়। বেলা পাঁচটার মধ্যে ভক্তদের খাওয়ানোর কাজ শেষ হয়। আর খাওয়ানো শুরু হয় বাবা বসন্ত রায়ের পুজোর পর পরই। ভক্তরা যখন খেতে বসেন তখনই পুরোহিত মশাই নিজে গিয়ে ভক্তদের গলা থেকে উত্তরীয় খুলে নেন। সঙ্গে সঙ্গে ভক্তরা পুনরায় শিবগোত্র ত্যাগ করে নিজ নিজ গোত্রে ফিরে যান। এইভাবে শেষ হয় বাবা বসন্তরায় জীউ-এর গাজন পর্ব।  

   এত বড়ো মেলা। এত ভক্ত, এত লোকজন। সবকিছু সামাল  দেওয়া হয় কী করে? আর এত আর্থিক ব্যয়ভারই বা বহন করে কে? খোঁজ নিয়ে জানা গেল এখানে একটি ট্রাস্টি বোর্ড তৈরি করা হয়েছে। সেই ট্রাস্টি বোর্ডের তিনবারের প্রাক্তন সম্পাদক অরুণকান্তি ভুঁইয়া, বর্তমান সম্পাদক শ্রী সমীর, এখানকার শ্রী শ্রী শ্যামামায়ের সেবিকা কল্যাণী মা, ট্রাস্টি বোর্ডের প্রাক্তন সদস্য সত্যসাধন চৌধুরী এবং পুরোহিত ত্রিপুরানন্দ পলসাঁই জানালেন সেই ট্রাস্টি বোর্ডই মন্দিরের যাবতীয় বিশাল কর্মকাণ্ডকে সুষ্ঠু ও সুচারুরূপে সম্পন্ন করে থাকেন। এই ট্রাস্টি বোর্ডের বর্তমান সদস্য সংখ্যা মোট তেরো জন। ১২ জনকে মনোনীত বা নির্বাচিত করা হয়। একজনকে রসকুণ্ডু গ্রামবাসীরা ঠিক করেন। এই বোর্ডের মেয়াদ তিন বছর। তিন বছর ছাড়া ছাড়া বোর্ডের সদস্যদের পরিবর্তন করা হয়। সদস্যদের মধ্য থেকে সম্পাদক, সভাপতি ও কোষাধ্যক্ষ ঠিক করা হয়। বর্তমান বোর্ডে অর্থাত্‍ ২০২৬ সালে সভাপতি আছেন বাদল দাস, সম্পাদক হলেন সমীর বারিক এবং কোষাধ্যক্ষ আছেন রাজীব ভুঁইয়া।  রসকুণ্ডু গ্রামে আছে ছয়টি পাড়া। জানপাড়া, ঘটকপাড়া, বারিকপাড়া ,দক্ষিণপাড়া, উত্তরপাড়া এবং পশ্চিমপাড়া। প্রতি পাড়া থেকে দু’জন করে সদস্য নেওয়া হয়। রসকুণ্ডু বোর্ডের সদস্য ছাড়াও রসকুণ্ডু গ্রামবাসীরাও মেলাটিকে সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করার জন্য দায়িত্ব নিজেদের কাঁধে তুলে নেন। 

   আরও জানা গেল মন্দির চত্বর এবং পুষ্করিণী এইগুলি ছাড়া মন্দিরের আয়ের উত্স তেমন নেই। এখানে সারা বছর ধরে যে সকল পুণ্যার্থী ও ভক্তরা আসেন তাঁরা ভক্তিভরে যা দেন এবং প্রণামী দেন তাতেই চলে যায়। এখানে পুণ্যার্থীদের আসার ভিড় এই কারণে হয় বাবা খুব জাগ্রত। বাবার স্বপ্ন দেওয়া বাতের ওষুধ আছে এখানে। যে সকল রোগী বাতের ব্যথায় ভুগছেন তাঁরা এসে বাতের ওষুধ নেন। সে ওষুধ গায়ে মাখতে হয়। ভক্তদের বিশ্বাস এখানকার ওষুধে বাত সেরে যায়। বাতের ব্যথায় আক্রান্ত রোগীদের এখানে রেখেও চিকিত্‍সা করা হয়। রোগীদের সেবা-শুশ্রূষা করার জন্য বেশ কয়েকজন সেবিকাও আছেন। তাঁদের মাসি বলে সবাই ডাকেন। ট্রাস্টি বোর্ডের বর্তমান সম্পাদক শ্রী সমীর রঞ্জন বারিক মহাশয় জানালেন এখানে বাতে আক্রান্ত রোগীদের সেবা করার জন্য ৮৫ জন মাসি রয়েছেন। প্রতিদিনই প্রায় দশ থেকে বারো জন বাতের রোগী ভর্তি হন। এক সপ্তাহ এখানে থেকে চিকিত্‍সা পরিষেবা পাবার জন্য রোগীদের মাত্র ৯০০ টাকা দিতে হয়। তার মধ্যেই রোগীদের থাকা, ওষুধ এবং মাসিদের সাম্মানিক দেওয়া হয়।  রোগীরা সুস্থ হয়ে বাড়ি চলে যান, আবার নতুন রোগী ভর্তি হন। সুস্থ হচ্ছেন বলেই তো আসেন নইলে তাঁরা আসবেন কেন। বাবার দেওয়া ওষুধে সুস্থ হয়ে আমলাগোড়া শ্রী গোপীকিষাণ ইঞ্জিনিয়ারিং প্রাইভেট লিমিটেড এর পরিচালক শ্যামসুন্দর কাজোরিয়া  বাবার মন্দিরের সামনে ভক্তবৃন্দের সুবিধার জন্য নিজ ব্যয়ে একটি সুদৃশ্য নাট মন্দির নির্মাণ করে দেন। সেটা ১৯৭৫ সালের কথা। অনেক বাতের রোগী ভালো হয়ে মানত করেন এখানে গাজন মেলায় ভক্ত থাকার। গাজনের সময় ভক্ত হয়ে তাঁরা সে মানত পরিশোধ করেন। গাজন মেলায় এত সংখ্যক ভক্ত বা সন্ন্যাসী হওয়ায় এটাও একটা অন্যতম কারণ। ২০২৫ সালের শ্রাবণ মাস থেকে বসন্ত রায় জীউ মন্দিরে অন্নভোগের ব্যবস্থা করা হয়েছে। যেসকল ভক্তরা এখানে পুজো দিতে আসেন তাঁরা ৪০ টাকার বিনিময়ে এই অন্নভোগ পাবেন। কাউন্টার থেকে সেজন্য টিকিট কেটে নিতে হয়। ভক্তরা যাতে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন জায়গায় বসে  অন্নভোগ খেতে পারেন তারজন্য বিরাট এক পান্থশালা ও রন্ধন শালা নির্মাণ করা হয়েছে। এই নির্মাণ কাজ এখনো চলছে। নাম দেওয়া হয়েছে অন্নপূর্ণার মন্দির। সবে মিলে বাবা বসন্ত রায় জীউ-এর মন্দির এখন জমজমাট। এখানকার মানুষ বিশ্বাস করেন সবই বাবার কৃপাতেই সুসম্পন্ন হচ্ছে। বেঁচে যাক বাবার প্রতি মানুষের এই বিশ্বাস, শ্রদ্ধা ও ভক্তি। দেবাদিদেব বাবা বসন্ত রায় জীউ-এর চরণে প্রণাম।  “বাবা বসন্ত রায়ের চরণে সেবা লাগে – মহাদেব-।” 

ঋণ স্বীকার :-

১. মৃণালকান্তি পলসাঁই (পুরোহিত-বাবা বসন্ত রায় জীউ মন্দির)।

২. অরুণকান্তি ভুঁইয়া (প্রাক্তন সম্পাদক-বাবা বসন্ত রায় জীউ ট্রাস্টি বোর্ড)।

৩. সমীর রঞ্জন বারিক ( বর্তমান সম্পাদক-বাবা বসন্ত রায় জীউ ট্রাস্টি বোর্ড)।

৪. সত্য সাধন চৌধুরী ( প্রাক্তন সদস্য–বাবা বসন্ত রায় জীউ ট্রাস্টি বোর্ড)।

৫. ত্রিপুরানন্দ পলসাঁই  (পুরোহিত-বাবা বসন্ত রায় জীউ মন্দির)

৬. তুলসীদাস মাইতি (সম্পাদক-টেরাকোটা)

৭. কাঞ্চন পাল (গীতি অর্ঘ্য : নম:বাবা বসন্ত রায় )

৮. প্রশান্ত পাল ( প্রবন্ধ – ‘শিব শক্তি ধাম-রসকুণ্ডু’)

৯. কল্যাণী মা (সেবিকা -শ্রী শ্রী শ্যামা মায়ের মন্দির) 

ছবি ঋণ : সুমন ভুঁইয়া (শিক্ষক-রসকুণ্ডু)

                 ................................ 


সম্পাদক - দুঃখানন্দ মণ্ডল

সহ সম্পাদক - শ্রীজিৎ জানা

প্রচ্ছদ - বিশ্বজিৎ ভৌমিক

কথা - ৯৪৩৪৪৫৩৬১৪


1 comment:

  1. সদা হাসিমুখ
    সু লেখক
    প্রিয় মঙ্গলপ্রসাদ বড়ই গুছিয়ে খুব কম কথায় লিখেছেন এই প্রতিবেদনটি।
    শ্রদ্ধা জানাই তাঁকে।
    চেষ্টা করছি এই লেখাটি আরও ব্যাপ্ত করার, শ্রদ্ধেয় বিশ্বনাথ ভট্টাচার্যের মাধ্যমে সাহিত্যের ইয়ারবুক ওয়েব সাইটে এটি পাঠালাম।[ মনে হয় হিন্দোলা হবে , হ্যাদোলা নয় ]

    দেবপ্রসাদ পাঠক ব্যানার্জী
    ঘাটাল

    ReplyDelete

পশ্চিম মেদিনীপুরের গাজন ও গাজন মেলা - পর্ব ১

  রসকুণ্ডুকে মহিমান্বিত করেছে বাবা বসন্ত রায় জীউ ও তার গাজন মেলা মঙ্গলপ্রসাদ মাইতি    রাঢ় বাংলার অন্যতম তীর্থ জনপদ হল রসকুণ্ডু। বর্ধিষ্ণু এই...