Saturday, 17 December 2022

কবিতা সামন্ত এর কবিতা // ই-কোরাস ৮৭

 



কবিতা সামন্ত এর কবিতা

১.

স্মৃতি শুধু থেকে যায় সময়ের অন্তরালে

              

জানো,একটা সময় ছিলো শুধুই ভালো লাগার। সকাল থেকে রাত্রি যেন সময় তৃষ্ণার্তের মতো লাগতো। কতো কথা কতো গল্প সব যেন বলেও বলা আর শেষ হতো না।

একই প্রশ্ন জিজ্ঞেস আর একই উত্তর তবুও বারবার শোনা আর বলা।


আদর মাখানো ভাদরের মন কেমনের সময় বসন্তের রঙে রঙিন হয়ে লেগে থাকতো কাঁচা বাঁশ আর ভ্রমরের গল্পে।

বিছানার চাদরে আতরের গন্ধ ম ম করতো।

ভোরের নরম রোদ জানালার হালকা পর্দার ওপার থেকে আরও নরম হয়ে ভেদ করতো।


ঠোঁট আর বুকের মাঝে অনেকটা সময় আটকে থাকতো দুষ্টুমি ভরা ভালোবাসায়।

শাড়ীর আঁচলে আদর বাঁধা থাকতো বারবার টান পড়তো বিছানায় থাক দুষ্টুমি হাতের মুঠোয়।


তারপর একটা একটা করে দিন পার হয়ে মাস বৎসর চলে যেতে লাগলো ঋতু বদলের সঙ্গে সঙ্গে। কথায় বার্তায় সময় উঠে এলো দায়িত্বের পরিধি চক্র নিয়ে।

সূর্য পূর্ব থেকে পশ্চিমে সরে সরে যায়।রোদ জ্বলা দুপুর হেসে বলে মধ‍্যাহ্ন সময়।


এখন আর ভালো লাগার সময় খোঁজার মতো সময় হয়ে ওঠেনা। মেঘলা আকাশের মতো মাঝে মাঝে দীর্ঘশ্বাস বেড়িয়ে আসে ক্লান্তির হাত ধরে।

জানালার ওপাশে অরণ্যের ভেতর থেকে অন্ধকার এসে জানালা ছুঁয়ে যায়। ছোট ছোট চারা গাছেরাও বৃক্ষে পরিণত হয়েছে নিজের মাথায় রোদ ধরতে ব‍্যস্ত দেওয়াল বেয়ের রোদও আসতে পারেনা ইচ্ছে হলেও।


যে ব‍্যালকনিটাতে বসে দখিণা বাতাসে চুল খুলে হাওয়া লাগাতাম গান শুনতে শুনতে সে ব‍্যালকনিতে শ‍্যাওলা জমেছে।ওখানে আর বসা যায়না সেভাবে।টবে রাখা ফুলের গাছ গুলো কবেই হাসি হারিয়ে নিজেদের মরদেহ নিয়ে দাঁড়িয়ে থাকে ঠাঁয়।


রাতের আকাশের তারাদের দিকে কতদিন সেভাবে তাকানো হয় না।বলা যায় ইচ্ছে করেনা।মনে হয় কোন বর্ষাদিনের কাঁদন মেঘের বন্ধ চোখের পাতার নীচে  ওরাও চাপা পড়েছে।

ঠিক খোঁজ নেওয়া হয়নি ওরা আজও সেই চোখ পিটিয়ে মিটিমিটি চায় নাকি!


রূপালী রাতে চাঁদের মোম গালিচা জোছনার রূপ যৌবন পূবের পুকুরের জলে এসে ভালোবাসার খেলায় মেতে ওঠে নাকি তাকানো হয়নি।

দেখার সময় বড্ড ক্লান্তির ঘুম জড়িয়ে ধরে চোখের পাতায় চুমু দিয়ে যায়।ওদের আদর আবদারে আমি গলে গিয়ে চোখ বন্ধ করে দিই বিছানার কোন এক পাশে।


ভোরের সূর্য পর্দার গায়ে লুকোচুরি খেলার আগেই চলে যাই সমুদ্র ডুব দিতে তাই নরম রোদের দুষ্টুমি আমার আর ধরা হয়না।

যে যার মতো করে থাক।আমি নাহয় আর ভালো লাগা খুঁজবো না।

                          …………………. 



২.

যাপন

      

কনের জল সইতে যাওয়া হলুদের রঙ লেগে থাকে হেমন্তের গায়ে। একটা অধ‍্যায় শেষ করে তবেই নতুন অধ‍্যায়ের শুভ সূচনার সূত্রপাত।

কারা যেন হৈ হৈ করে আদরে যতনে নবান্নের নবাআব নন্দিনীকে ঘরে নিয়ে আসে।


এরাও একদিন চোখের কোণে অনেক স্বপ্ন বুনে ছিল। এখন তার সত্যি হওয়ার আনন্দে উৎফুল্ল সবাই।

এখনো বসন্তের রঙ লাগতে অনেক বাকি।


মাঝখানে শুধু বিরহের হাহাকার যন্ত্রনা ঠিক যেন মেয়ে বিদায়ের আগে বাপের বাড়ির মায়া পিছুটান থেকে নিজেকে আলাদা না করতে পারার যন্ত্রণা।


এক জীবনে দু নৌকায় পা দিয়ে চলা যায় না। এটাই প্রকৃতির নিয়মনীতি। প্রিয়ার ঘরের সমস্ত সুখ কুড়িয়ে নিতে হলে পিতার ঘরের মায়া ত‍্যাগ করাটাই নারী জীবনের বিশাল বড় অধ‍্যায়ের জন্ম হয়।


হলুদ রঙের ঝরা পাতা গুলো যেন পিতার ঘরে কাটানো সেই সব দিনের সমস্ত আলপনা আবছায়া হয়ে মুছে যেতে চায়।কিছুদিন মেমরি থেকে সবটা ডিলিট হয়ে খালি এ‍্যলবামের মতো পড়ে থাকে এক কোণায়।আবার এবাড়ি ওবাড়ি সব জায়গায় নিজেকে মানিয়ে নিয়ে নতুন করে গড়ে তোলা কতো রঙিন ছবি।


নতুন করে আলপনা আঁকতে হয় নতুন খুশির স্রোতের বুকে।

ততদিনে পাতার মর্মর কান্নার শব্দ কমে আসে আর উঁকি দেয় শাখায় শাখার কচি নরম বাদামি লাল সবুজের কতো ছোট ছোট পাতারা।


একটু বসন্তের হালকা দখিণা হাওয়া দিয়েছে কি দেয়নি অম্নি ফুলে ফুলে রঙিন হতে শুরু করে প্রকৃতির বুক। ঠিক বোঝা না বোঝা নতুন বৌয়ের সাজে মেয়েটির মতো।কতো আর পিছুটান ধরে কান্না করবে! এবার তো আপন বধূর ভালোবাসার পরশে নিজেকে বদলাতেই হবে। হাজার হোক তার রঙে নিজেকে রাঙিয়ে পরিপাটি করে সাজিয়ে তুলতেই হবে।


সবটাই যে ভুলে গিয়ে নতুনভাবে নতুনের সঙ্গে ঘর বাঁধা।বিরহ না থাকলে পাওয়ার আনন্দটাই যে বৃথা।

ক্ষেতে ক্ষেতে ফসলের সবুজ মায়া আর গাছে গাছে ফুলের।ফাগুয়া রাঙিয়ে দিয়ে যায় গোটা প্রকৃতির বুক।

পাখিরদের কলতান উঠোনে খেলা করে কৃষ্ণ‍চূড়ার রাঙা পাপড়ি।

মধুমাসের যাপন কথা শুরু হয় ফাগের রঙিন পাখনায়।

                       ………………….. 


৩.

পূর্বপুরুষের উঠোন

                         

আমাদের এখন পাখির মতো পাখনা গজিয়েছে। উড়তে উড়তে কোথায় যে উড়ে যাচ্ছি কিছুই জানিনা। মরচে পড়া ঘরের তালা আর শ‍্যাওলা জমা উঠোন ব‍্যবহার করিনা তবুও কখনও কখনও সামনের ব‍্যক্তিকে নাক উঁচিয়ে বলি এই তুমি কি জানো? আমি কোন বংশের বংধর?


আমার সাত পুরুষের পূর্ব পুরুষরা এই করেছেন সেই করেছে। লজ্জায় কুঁচকে থাকা ছাতিটা লোকের কাছে ছাপ্পান্ন ইঞ্চির থেকেও বেশি হয়ে যায়।


কখনও ঠাকুরদার তৈরি সেই শ‍্যাওলা জমা ঘাটের জলে পুঁটি মাছেদের সঙ্গে বসে গল্প করা হয়নি।জলে ডুব  সাঁতার দিয়ে কতোটা শ্বাস আছে আমাদের ফুসফুসে তাও জানা হয়না।কেমন করে রান্না ঘরের চালে বসে শালিক জোড়া তাদের ভালোবাসার খুনসুটি ঝগড়া করে তাও দেখা হয়না।উঠোনে শরতের গন্ধ মাতাল করা শিউলী গাছটার দিকে ঝুড়ি নিয়ে গিয়ে কখনও ফুল ভরে পুরানো ঠাকুর ঘরের দরজা খুলে রেখে আসা হয় না।


নিয়ম করে কুলদেবার আরাধনায় ধ‍্যানে বসাও হয় না।

মা কাকিমাদের রান্না ঘরে গল্প জমে ওঠেনা।হাওয়া বদলের হাসি ঠাট্টা কখনও কখনও আবার রাগে চুড়ির ঝনাৎ কিংবা কড়া খুন্তির বেশিই শব্দ করে কথা বলা অথবা শীল নড়ার ঝগড়ার শব্দ আর আসেনা।সেভাবে পাত পেড়ে একসাথে বসে খাওয়াও হয়না।বলতে গেলে শরীরের মধ‍্যাংশ মানে পেটটা বাইরে বেড়িয়ে না আসে সেই ভয়ে রসে বসে বাঙালী কথাটাই ভুলে গেছি।


দেখনদারির নবাবীআনাতে পেটের কোন কোণে কতোটা খালি সেটাও লুকিয়ে রাখার ভনিতা করতে শিখেছি।


শিখেছি তো হরবোলা পাখির মতো অন‍্যের ভাষা।পোষ মানা পাখিদের মতো আদব কায়দা।আর অনেকটা  সংকীর্ণ হৃদয় যেখানে পূর্বপুরুষের বানানো নিয়মনীতি তাদের চিতার আগুনেই সহাঃ করে দিতে দুবার ভাবিনি।


তবুও বলি আমি অমুক বংশের আমি তমুক বংশের। ঘুরে ফিরে সেই পূর্বপুরুষের উঠোনেরই খুঁটি ধরে বেঁচে থাকি। সত‍্যি বলতে যতই তর্কাবিতর্কের দলিল দিই কিন্তু আদৌ নিজেদের পরিচয় তৈরী করে উঠতে পারিনি আজও আমরা।

                         ………………… 

গ্রাম সংখ্যার প্রকাশিত হয়েছে। আপনি সংগ্রহ করতে পারেন।  


সম্পাদক - দুঃখানন্দ মণ্ডল

সহ সম্পাদক - শ্রীজিৎ জানা

প্রচ্ছদ - কবিতা সামন্ত

ঠিকানা -সুরতপুর,  দাসপুর, পশ্চিম মেদিনীপুর

পশ্চিমবঙ্গ ৭২১২১১

কথা - 9434453614








Saturday, 10 December 2022

অঞ্জন দাস এর কবিতা // ই-কোরাস ৮৬

 



অঞ্জন দাস এর কবিতা


১.

আগুন শিখছি কাছাকাছি     


।।করবীতলা

রাতের বন্ধুত্ব এখনো রয়েছে ফুলে 

ভরদুপুরে নাবালিকা রোদ 

ঝাঁটায় কুয়াশা 

তুমিআমি ছায়ার ভেতর আগুন শিখছি কাছাকাছি         

।। অপর্যাপ্ত ক্রোধে 

আমাদের সীমানা ছোট করে গাছ

ফুল ফল পাতা পড়ে  তখন ভাবিনি বড়করে ;

রোপনের  নির্জনতা তারও তেমন পাওয়া চাই

।।স্বর্ণগ্রাম      

যেসব কুয়াশা ছিল মাঠে রিলটানা রোদ

বৃষ্টিরা ওড়না চমক  পলাতক তারা খোঁজহীন আমরা সবাই...

আমাদের পরবর্তী  সন্তান নেই। মাঠ মাটি করবী তলা

আর বিশ্বাসী মা নেই,  নেই  অনুভূতি   ভেঙে যাচ্ছে পাড়া  

।।সন্তান আছে   

নেশাগ্রস্ত ক্লাবের পুরুষ ওরা সমাজ সেবক 

শুধু বাঁচা  আর বেড়ে উঠবার শর্তে  

ওরাই ওদের বলে খানকির ছেলে    

কি চেয়েছে কি পেয়েছে কিছুই জানেনা

শুধু অসঙ্গত অন্যায়এর সংজ্ঞা হয়েছে

।। রয়েছে ধর্ষণ  

বাবার ভয় আর মায়ের অবিশ্বাসে বড় হচ্ছে মেয়ে

মেয়ে ফেরেনা সময়ে   মানে নেই, ধারা যেতে পারে  এখন সময়   

।।  শহরের মতো

এখানে ও ধর্ষক  রয়েছে  এক চেন

ভয়ংকর ভয় পাতার ঝিরিঝিরি

শহুরে দাপুটে নেতার মস্তান রয়েছে 

আর একটি যুদ্ধে সাজো সাজো গাঁ

অনেকেই মাঠ থেকে ফেরেনি

কোনোকালে ফিরবে না ওরা     

।।অবলীলায়    

সমস্ত সংস্কৃতি লোকজন মা হীন 

গাঁয়ের মায়েরা পুরুষ হয়েছে   

সমস্ত শ্রী নিয়ে লোভ চকচকে

।।উওর সন্তান 

শ্মশান কালির মায়ালোক        

একদিন পুরুষেরা ব্যাবি দিতে পারে       

হয়তো ফিরতে পারে আমাদের পৌষ আর পিঠের পার্বণী... 

এখন ঘুমাও তুমি প্রিয়ে চলছে নাটক

              ……………….........


২.

হেনার জঙ্গল


মঞ্চপত্রে তোমার সম্মাননা পাঠকরে দেখি

ছুতোর মোড়ে যত পুরনো কাঠের গুঁড়ি

ভাগ হচ্ছে চেরাই মেশিনে

স্রোতাদের যাবতীয় আসবাবে সেজে ওঠে ঘর

মেপে নেওয়া ফিতের অহঙ্কার পরপর গুটিয়ে পড়েছে


যাবতীয় জ্যোতি কেড়ে নিচ্ছে পূজক নলিনী

পোক্ত বুকের পাটা ;

হেনার জঙ্গল

যেখানে বিষাক্ত সাপ আশ্রয় নেয়

কাদামমী প্রান্ত জঙ্গলে বেড়ে ওঠে অর্কিড

আলোহীন সভ্যতার অদৃশ্য পাখি 

ডেকে চলে যাও ছোট নদী মুথা তুলসী বুকে

পাখার ভেতর থেকে খসে পড়ে অনন্ত জিজ্ঞাসা

জাগে অন্ধকার নখীয় ভদ্রতা


আমাদের শান্তি ঘাটে এখন বাজার বসে

সহজ দামে বিক্রি হয় গভীর জলের মাছ

নাপিত চুল কাটে তোমাদের মস্তদাড়ি ছর করে নিও

আর নিও দরিদ্র মানুষের গ্রাস

নলিনীর  উপন্যাস সেসব  মেটাবে 


মঞ্চপত্রে তোমার সম্মাননা পাঠকরে দেখি

               …………….........


৩.

ম্যারাথন  স্ট্রিট



বৃষ্টি রাতের গাড়ি পরপর ওভারটেক করছে

সামনে দীর্ঘাঙ্গী কালো মেয়ে বাকের পরে বাঁক

আমি যে রমণীর রূপোর পয়তা দেখেছি হৃদ বরাবর

বুধবারের পাড়ে লাল লাল চুমকি বসাবো

নিসর্গ রাতের জোনাকি, আচ্ছন্ন সমস্ত হেডলাইট

বিপরীত ঝলকানি খুঁজে দিচ্ছে উপন্যাসের শ্রেষ্ঠ সংলাপ

ম্যারাথন স্ট্রীট ল্যাম্প নিভিয়ে নিওনা

রাতের কান্না ঝরে পড়ছে সারিবদ্ধ আবহমানের স্থায়ী চোখে

স্বর্গীয় ঝলকানি ,শহরে জমা হচ্ছে গম্ভীর শব্দেরা

কাঁচের  উপরে দুটি সাপ মুছে দিচ্ছে ভ্রম

ড্রাইভার জানে রেডিয়াম স্টিকার এর যাবতীয় সংকেত

আমাদের চোখে কিলোমিটারের বাতি

ব্রিজের পাশে সারিবদ্ধ বামন বালক

ছুটছে বিলো হর্ণ নো পার্কিং জোনে ভিজে যাচ্ছে একটি উন্মাদ

জীবনের টোল ট্যাক্স মূল্য আদায় করে 

চকচকে জীবনের কালো পা

থেমে গেল।

বাতাসের ব্যাকরণে আমাদের সমস্ত গতীপথ

পেছনে ফেলতে চায় তোমাকে

অদ্ভুত আনন্দ জয়ের উল্লাসে

কালো মেয়ের গায়ে ছড়িয়ে পড়ে রক্ত

বলি না কখনো ডাইভার আস্তে চালাও

আর একটু ভরে নাও ইন্ডিয়ান অয়েল

আমরা এগোচ্ছি নেশা মুক্ত চিমনির দিকে

সামনে জগন্নাথ চোখ, পোস্টার দিদিকে বলো

উড়াল পুলের নিচে  টিকে আছে আর এক সভ্যতা

বৃষ্টি রাতের গাড়ি পর পর ওভারটেক করছে

মুহূর্তের ভেসে আছে চমৎকার জীবন

রূপকথা নিয়ে শহর থেকে ফিরছি।

আমাদের সমস্ত ম্যারাথন স্ট্রিটে শুয়ে থাকে কাল মেয়েরা

কাজ চলছে আস্তে চালান

আমাদের চোখে কিলোমিটারের বাতি।

            ……………….......




সম্পাদক - দুঃখানন্দ মণ্ডল

সহ সম্পাদক - শ্রীজিৎ জানা

প্রচ্ছদ - কবিতা সামন্ত

ঠিকানা -সুরতপুর,  দাসপুর, পশ্চিম মেদিনীপুর

পশ্চিমবঙ্গ ৭২১২১১

কথা - 9434453614

Saturday, 3 December 2022

অঞ্জন দাস এর কবিতা // ই-কোরাস ৮৫

 



অঞ্জন দাস এর কবিতা


১.

ফাঁকা গলার গদ্য


পেছন দরজা খুলে পেছন মেরেছে

প্রচণ্ড প্রতাপের একমুখী রুদ্র পরেছিলে বাবা 

হার্ড বয়কট ভুলে চুলের ব্যবসায়

তোমার প্রতিবাদ বেচে দেবে মমতা

!! তুমি কী জানতে বলো 

খলো খলো খলনায়কের তোড় এখনো জোয়ার

গায়ে পড়ে এখনো তোমার জ্বালা

শালা শিশির জানেনা ঘাসের পায়ে পড়া রোদ পরাবে ইন্দ্রজাল

এ যে কালবেলা,হয়তো বদলে নেবে পট 

তুমি শুধু হাইচানি জমে থাকো গায়ে    

তোমার একুশ আমার একুশ আজ লোভী হয়ে গেছে

!! ভাসা ভাষা

ন্যায় যুদ্ধে একশত সন্তান কিচ্ছু পারেনা তাও জানো

তবে কোন অহংকারে খড়্গ উচাও সখা

!! চক্র কাটে সমস্ত চক্কর   

চোখে শুধু জয় ছিল, সততার চরম সাহস 

আজ তুমি কি নিয়ে লড়বে বাবা এতো এতো দুর্গম রাতে

বাতের যন্ত্রণা যোগ দেয় গায়ে, গতরে শকুন করে বাসা    

তাও সন্ত্রাস !   হাসি পায় লজ্জা আনো চোখ   

অহংকার ফেলে অশোক বিশ্বাস নিয়ে চলে যেও গয়া

অথবা বৃন্দাবনে,  প্রায়শ্চিত্তে যাও বুকের মমতা 

ওখানেই  ভণ্ডামি রাখো              

                 -------------------------


২.

আগুনের আত্মহত্যা

    

তোমাকে ছোঁবোনা বাঁশি

বিষমন্ত্র,জেগে আছে আমার পাড়ায়

!! তোমাকে   ছোঁবোনা বাঁশি

ডাল ভেঙে পড়ে গেছে ত্রিফলক রোদ  

ঘূর্ণি মার্ডার করে  

পিকাপ ভ্যানের চাকা,টাল বাতাসেরা!

!!আগুনের আত্মহত্যা

কলম চোবেনা আর পাড়ার দোয়াতে

 তোমাকে   ছোঁবোনা বাঁশি  

সর্বনেশে খিদের হুঙ্কার একটি প্রলয়

!!খুব কাছে, থরে উঠছে

ঘর,আতঙ্ক সিনেমার একটি ডায়লগ   

মাস্টার মশাই   

আপনি কিছুই দেখেন নি, গুণ্ডা দাঁড়ি! 

 তোমাকে   ছোঁবোনা বাঁশি  

বৈশাখী কাল শনির ছদ্মবেশে আমার

!! গনেশ মাথা কেটে

ফেরত দিয়েছে মানুষের মতো নয় মাথা  

হাতির কানের মতো 

হাতির দাঁতের মতো হাতির চোখের মতো

!!কিছু নেই শুধু শুধু

শুঁড় বেড়ি ধরেছি সিংহাসন আর তোমাকে

তোমাকে   ছোঁবোনা বাঁশি       

বিষমন্ত্র,জেগে আছে আমার পাড়ায়   

         --------------------------------


৩.

আগুনের ধাতুরূপ  


যে ছিল আমার...   

গলাভাঙা নদীচুড়ি 

আমাকে খেয়াল গাও, অপসেটে ছাপো নিশ্বাস

ঝাউ পল্লবে সাঁই স্বপ্নেরা ছোটে

গাছ মাথা অন্ধকার টুকছো বিশ্বাস


সুগার ফল্ট কবিতা সিরিজে     

 রুমালের মধ্যবিত্ত ঘামে তুমি থেকো 

আমি যে উপায়হীন প্রিয়দর্শী শ্বাস  

কাটাগলা জুড়েছি অনেকবার  

 ঘন্টা সহস্র ক্ষতের আনত পরিধি লিখি

স্কুলমুখী হয়েযাই রেশনের চাল 


পালের হাওয়ায় 

একটি ও সেমুখ দেখিনি

দেখিনি উচ্চবিত্ত মেঘহীন প্রফুল্ল সকাল  

বালিকা উচ্চ হলে বিদ্যালয় কমে যায়

তাও বুঝি বুঝিনি কেবল শুনি একতারা 

ফাঁকা নিকেতন পিঠে রবীন্দ্র প্রয়ান দেখি  


চেয়ারের দামী সক্ষতা বোবা বলে চাকরি দিলনা

তবু জীবনানন্দ পড়ি ফ্যাকাসে চোখের পাড়ে  

 মথুরা নয়ানজুলি  

হরিনী বিদ্রুপ কেনো মুক্তো ভেবেছি 

দেখেছি জানালায়- উড়ন্ত শামুক

               ড় আসলেই আবার চুরি 

দাপট বাজির বঙ্গে

তেলের শিশু ভাঙবে খোকা

তাসের গোলাম সঙ্গে 


পগের মাথায় কুণ্ডলী ও

ভাঙতে পারে দেশ

পাছার নিচে কয়লা গোঁজো

না হলে সব শেষ 


হেব্বি ওয়েট 


পেটের ব্যাথা- ফেল ওষুধে

ফ্রিজ ফুলে ডাঁই চিয়াস

উনিশ এবার দায় নিয়েছে 

মুখ্যু চাঁদের ইয়াস 

              ---------------------------


৪.

ছয়াশূন্য পুরুষ 


রেখারাত চলে গেছে গজলের গানে

আরতির শাঁস নীল পর্দার আড়ালে

পাতা খুললেই শুনি শাঁখের আওয়াজ 

জগৎ বৃষ্টি ময় বাঁশি ভাঙি গালে 


এমন বিভূতি রাধে ধুনোদৃষ্টি নদী

বাতাসের মজ্জা ও টুকলি করছে খরা

জ্বরা পৃথিবীর দলে বিভাজন খেয়া

সবার থাকেনা চোখ জলমগ্ন যারা

          ----------------------------


৫.

রাত আকাশের ক্ষত সিলভার থালা


প্রেমিকার মতো আমাকে ভালোবাসতে নেই

সম্ভাব্য নারীর চোখে লুকোনো আমার চোখ

আমাকেই দেখে আমিও ফিরিয়েছি মুখ

কোন সাহসের তোমার বাবুই বাসা এতো সুন্দর

সেকথা বুঝতে গিয়ে ডিগবাজি খাই বিরুদ্ধ আমি

প্রেমিকার মতো আমাকে ভালোবাসতে নেই


যত্ন সবাই চায়

দুর্বোধ্য কবিতা ও

তোমাকে ছন্দোবদ্ধ রেখে বাকিটা গদ্য লিখি

প্রতিটি গদ্যের চলমান সিঁড়ি অলৌকিক নেমে যায়

অমৃত সাগরে 

নগরের সব আলো উল্টো উল্টো লাগে

নাথেকে কেমন থাকার পাশে সারিবদ্ধ থাক্ হয়ে আছো

প্রত্যেক খ্যাতি আর অর্জিত পরমা

আমার বুকের নীলে তুমি তবু গভীর বিস্ময়

তোমাকে রেখেছি রোজ পঙক্তির গভীরে

পাছে  ঘুম ভাঙে পাহারায় বসে থাকি রূপোকাঠি


কখনো  হালকা ফাঁকা মাঠ 

 ফিসারিজ এ ডুবে থাকো

 রাত আকাশের ক্ষত সিলভার থালা।

              ---------------------





সম্পাদক - দুঃখানন্দ মণ্ডল

সহ সম্পাদক - শ্রীজিৎ জানা

প্রচ্ছদ - সুব্রত ঘোষ

ঠিকানা -সুরতপুর,  দাসপুর, পশ্চিম মেদিনীপুর

পশ্চিমবঙ্গ ৭২১২১১

কথা - 9434453614


পশ্চিম মেদিনীপুরের গাজন ও গাজন মেলা - পর্ব ১০

  গ্রামীণ গাজন উৎসব, দাসপুর ২ বঙ্কিম মাজী  বাংলায় গাজন উৎসব শব্দের অর্থ গ্রামের জনসাধারণের উৎসব। এই উৎসবে যারা অংশগ্রহণ করেন আমাদের গ্রামীণ...