Friday, 1 June 2018

একটি গাছ:একটি শিশু e-কোরাস ৮



                                                            একটি কবিতা,একটি ভাবনা,একটি স্বপ্ন। এমনি একটি রূপ কলমের।  কবিতা পারে জীবনের কথা বলতে,মিলিয়ে দিতে পারে জীবনের সাথে কবিতার লাইন।  

                                                                                                                                               দুঃখানন্দ মণ্ডল

    কোরাস-সম্পাদক




বিপ্লব গঙ্গোপাধ্যায় এর দুটি কবিতা-

অপেক্ষা দাঁড়িয়ে থাকে দক্ষিন দুয়ারে


আলো ফোটার আগেই ঝরে পড়ছে সকাল
তবু তুমি চোখ খুলে আছো
চোখ খুলে আছো নতুন দিনের জন্য
আমাদের কোন জাদুকাঠি নেই
আমাদের কোন আহ্লাদি পার্বণ নেই
স্বপ্ন নয় নিরবচ্ছিন্ন ঘুমের পাহারায় আমাদের ক্লান্তি ছায়াপথ ধরে হেঁটে যায়

আলো না ফুটলেও  রাত একসময় দিন হবে
কবজির জোর থাক বা থাক
পৃথিবী ঘুরছে আমাদেরই জন্য।
অপেক্ষা দাঁড়িয়ে থাকে  দক্ষিন দুয়ারে।
             ......................

বিবাহমঙ্গল

ফুল ফুটলেই গন্ধ
তোমার মনের খবর জেনে গেছে ওই প্রিয় গাছ।
খেলা খেলা  খেলা
এক দুই তিন চার ......
হাওয়ায় হাওয়ায় ভেসে যাচ্ছে নিজেকে ছড়িয়ে দেওয়ার বিস্তৃত বাসনা
এই লিপ্সা অমরত্ব
এই লিপ্সা অমৃতের স্বাদ

সুমঙ্গল ইচ্ছের ঢেউ বয়ে যাচ্ছে কেউ দূরবর্তী রেণুর শরীরে।
                  .................. 

সৌমিত্র রায় এর দুটি কবিতা-

আত্মকথনে মাতি

   ফিসফাস ৷ খুনসুটি ৷ আলাপন
                < স্ব-চ্যাট >
নিজে ৷ প্রকৃতির সাথে ৷ আনন্দধ্বনি
            .................

দু-চাকার কিশোরীবেলা

  কন্যাশ্রী ৷ সাইকেল ৷ রিং
                ) ঘুর্ণণ  (
সময় ৷ চূর্ণবিচূর্ণ ৷ চাকার শরীরে
           ................

শুভঙ্কর দাস এর দুটি কবিতা-

নিজস্বী

খারাপ খারাপ অভিজ্ঞতাগুলো
পচা আনাজের মত
ফেলে দিতে হয়,বাইরে,ছাইয়ের গাদায়
অথচ সম্পর্ক-রান্নার বইখানি খুলে দেখ,প্রায় প্রতিটি পাতায় লেগে আছে বিস্বাদ!
মুখোশের সামনে পুজো আর পরবের সকল নিয়ম পালন করে মুখ খুঁজি রোজ,
নিজেকেই দাঁড়িপাল্লায় তুলি,নিজেকেই হারিয়ে দিই,
আয়না কোথায় রেখেছে,নিজেকেই দিতে হবে খোঁজ!
এত আয়োজন,এত পথ,এত মিলনের উৎসব
শুধু বুঝে নিতে হয়,দিনরাতের চাওয়া-পাওয়ায় কতটুকু দিতে হয় নিজেকে বাদ!
               ..................

ঈশ্বরের হাত

কনেদেখা আলোর মত মাঠভর্তি পাকা ধানের পর ধান,
গামছা কাঁধে দাঁড়িয়ে থাকা চাষার মুখ দেখে মনে হয়,ঈশ্বরের মুখ এইরকম হয়তো দেখতে!
মুগ্ধতা লেগে থাকে চোখে,কী করে এমন ফলায়!
নীরবতার একটা আশ্চর্য তরঙ্গ আছে,উত্তরও একধরণের যেন ফলসের হাওয়া,
চাষাটা কাদামাটি তুলে মুখে ঘষে নেয়, তারপর শুধু জানায় এভাবে।
               .................

মৌমিতা ঘোষ এর দুটি কবিতা-

অন্তর্বর্তী


তারপর 
নিয়মের বাইরেও
এক রাত নামে বলে
কিছু কথা বলা হয়না
কিছু শোক ব্যক্তিগত
পুড়ে যায়
কিছু কথার উপরে
ধুলো জমে
গল্পরা পরিচয় হারায়
কিছু শব্দ নেহাত
ভিখিরি হয়ে কাঁদে
'তুমি কি রেখেছিলে হাত? বলো?
সন্ধে নামার আগে
তারারাও অগোছালো যখন?'
নতুন কোন গল্প
দিতে পারিনি তোমায়।
এই অগৌরবে
সস্তার পদ্য উড়িয়ে দিই
মেলে দিই ঘাসে ঘাসে...
তুমি কি কখনো
উপুড় করেছ মন
বর্ষার জলছবিতে?
বিনি সুতোর মালায় বৃষ্টির বিন্দু
অসীমের মহাকাব্য লেখে
আমাদের মাঝখানে...
            ...............

আকাঙ্খা

মুঠোতে ধরতে পারোনা সময়
ছড়িয়ে পড়ে সে স্বাভাবিক
জড়াতে পারোনা আজ ও হাতে হাত
সংযমে দূরে থাকাই সহবত।
অথচ কোন কোন  রাত আজ ও
স্পর্ধায় জেগে থাকে
চাঁদ মুঠো করে. ...
       ............. 

রাজেশ চন্দ্র দেবনাথ এর দুটি কবিতা-

চুলা


দু একটি শ্মশান  ঘাটে ঘুরে এলাম
নিজের জন্য উপযুক্ত চুলা খুঁজে পেলাম না আজো
দাউদাউ আগুনে কিছু শব্দের হাড় চিবিয়ে নেয়
সম্পাদিত জোৎস্নায়
ছাই মাখা মাংস আর কিছু গল্পের ভগ্নাংশ
সাংকেতিক ভাবনায় আয়োজন সেরে নেয় শেষ বেলায়।
             ................

পোষা কবি

ধার দেনা করে কিছু লাইক
আর কিছু পোষা কবি ফেইসবুকে
অহেতুক চেঁচাবে না আজ।
মদখোরের ভরাট পাতায় জেগে উঠবে না
পেন্ডুলামের উলঙ্গ নিশ্বাস।
শয়তান- ভগবান-কবি তিনে মিলে
অস্তিত্ব ময়দানে খেলায় মদমত্ত
প্রত্যেকেই নিজেদের লেজটুকু পেঁচিয়ে
কুতুকুতুতে গা এলিয়ে প্রতিশব্দ শুনতে চায়।
আলস্য রাতে তিন নারীর আচল
ভিজিয়ে ভদকা প্রেমী
কবিতা খাতায় শুকায় ছেড়া কন্ডোম।
                  ................


সৌতিক হাতী এর দুটি কবিতা-

দুর্নিবার রাত্রি


মেঘে মেঘ মিশে গেলে
পড়ে থাকে হা পিত্যেশ
আবেগের উষ্ণায়নে বরফ গলে না
হয়ত ফ্রয়েডই শেষ কথা
ছোট ছোট ইচ্ছে ডানায় ভর করে
এক একটা দুর্নিবার রাত্রি আসে
মখমলী স্পর্শে জেগে ওঠে জোনাকিরা
শুধু হিসেব মেলানোর সময় এলেই
অনাবৃত চাঁদে গ্রহণ লাগে
চন্দ্রাহত ফেরিওয়ালা
ফ্যাল ফ্যাল করে তাকিয়ে থাকে
আকাশের দিকে...
      ...............

   দিনযাপন


জানালার ফাঁকে উঁকি মারা
দাবদাহ সামলাতে
লাগিয়েছো সানগ্লাস,
ব্যস্ত রাস্তার ধূলো থেকে বাঁচতে
কালো মাস্ক!
তোমার আছে অনেক ঢাল ও বর্ম,
দিনমজুরের ওসব নেই,
রোদে পোড়ানো রোবট শরীর।
গ্লোবাল ওয়ার্মিং কিংবা অগ্নুৎপাত
সব তুচ্ছ করে ওরা কাজ করে চলেছে...
অনাহারের ধারাপাতে
নামতা গুলো
লম্বা হচ্ছে ক্রমশ
আর তোমরা কিনা
তার ধারাভাষ্য দিতে
বসেছো বাতানুকুল কাচঘরে?
          ..............

বিকাশ চন্দ এর দুটি কবিতা-

অনুচ্চারিত শব্দের কোলাহল ৪


রাতের আঁধার ছেঁড়ে বারুদগন্ধি আলো নীল নেশাঘোর
রাস্তার দু'পাশের জঙ্গল ফুঁড়ে এদিক ওদিক জোনাকি দহন
হেঁড়ে গলায় বেহেড মাতাল খিস্তি--আবে হট---বাপের রাস্তা...
বোঝা মুস্কিল কে বাপ কে ছেলে কিংবা কে বা মেয়ে মা
নাচার সময় কাল জানে নড়বড়ে সম্পর্কের খিলান,
রোগে ভোগা গরিব মানুষ আটকাল বারোমাস ঝুলে থাকে
রহস্য মোড়া শ্রীময় মাকড়শা ফাঁদে ---
সকলেই বলে গেলো পৈত্রিক তিনকাঠা জমি বাড়ী ঘর
উধাও হলে কেউ কখনো কাঁদে।
কোন হাতকড়া নেই তবু বাঁধা অর্জিত অধিকার
এ নিয়ে কত না কমিশন আইন আদালত
বন্ধকী হৃদয়ে কিছু ও বা ছিল শত্রুমিত্র সব
এখন নীলকর লুঠেরাদের মহোৎসব সময়,
স্বাধিকার লোপাট হলে ভরে যায় সাদা থানের গাঁট
মানুষের বুকে মাথা রাখলে বিশ্বাসী শ্বাসের স্পন্দন
ঠিকরে আসে হৃদপিণ্ড গড়ায় নুড়ি পাথর
ঠোক্করে ঠোক্করে অন্ধকারে আগুনের অলক্ত চমক
প্রেতযোনি পথে রাজা রানি ব্যস্ত সাপলুডো খেলায়।
              .....................

অনুচ্চারিত শব্দের কোলাহল ৫ 


যীশুর বুকের বাম দিকের বিদ্ধ পেরেক
চুইয়ে নামলো রক্ত--
উচ্চারণহীন কোন উক্তি ছিল কি এ রক্ত
রোমান ক্যাথলিকদের জন্য,
বুকের ডান দিকের পেরেকের ক্ষত থেকে
চোয়ানো রক্তে অনুচ্চারিত কোন শব্দবন্ধ
হয় তো ছিল না----এই রক্ত প্রোটেস্টান্টদের জন্য,
যীশু জানতেন এ রক্তদান মানব মুক্তির।
ভোটের মেশিন ছিল---চাপ দেয়ার কথা ছিল বিষ আঙুলের
কথা ছিল অধিকার জেগে উঠবে নিরন্ন প্রজার শরীরে,
এখন তো আঙুল ছোঁয়ানো বারণ,
কোথাও তো তাও নেই--- হায় ভোটাধিকার !
বিবস্ত্র নারীর চোখের জলের হয় তো কিছু কথা
মাটি ছুঁয়ে ভেজায় দূর্বা শেকড়---
প্রজাতান্ত্রিক ধ্বজার বেদী নিলামে উঠবে বোধয়
লাল্কেল্লার মতো---ওই টুকু যা বাকি,
আমার আঙুল, আমার বৃদ্ধা-তর্জনী-মধ্যমা----
এখনো হাতড়ে বেড়ায় অক্ষর মহিমা----
কতটা ক্ষরণ দেখেছিল তক্ত ভেজা শব্দ গরিমা।
                      ......................

দেবাশিষ কুইল্যা র দুটি কবিতা-

  সম্পর্ক

মায়ের হাতে সুঁচ ফোটার ক্ষতরা গভীর।
দেওয়ালের সাথে কার্ণীশ, জানালা ছাদ।
উঠোন জুড়ে সব ভাবনা।
ভিতরের ফাটলে ঢুকছে শ্বাপদেরা।
আসলে কাটছে সম্পর্কের সেলাই।
             ................

মৃতপা


জানালা পেরিয়ে আকাশ কাছে এলে
  আয়নাকে বড় ভয় হয়।
  মুখোশ দেখে আর পড়তে পড়তে
   অভিঞ্জানের বৈঠা সাজিয়ে
    অতলস্পর্শী গভীরতা ডাকে।
  সব শূন্যতা নিয়ে বসে আছে
  চাঁদমাখা  বালুচর
  সূর্য স্নানে ভালবাসা উধাও।
   শব্দমালার ভিতর
         আর একটি দেশ ----
    আকাশী প্রদীপকে সাক্ষী রেখে
     চলে গেছে আশ্চর্য অন্ধকারে।
                ...................

ঈশানী বসাক এর দুটি কবিতা-

পূর্বপুরুষ


বসার জন্য পুরো একটা আলাদা ঘর
এটা কখনো দেখেনি অমল
ঠিক যেমন করে দেখেনি রান্নার কিচেন
পরিস্কার হাতে টুকটুক করে রান্না
এসব রূপকথা ভেবে সরিয়েছে চিরকাল।
মায়ের চুড়ি থেকে ভাতের পরিমাণ বুঝে
দিদি বেড়ে নিতো থালা
কখন যে বাবা বলতো খেয়ে এসেছে বাইরে থেকে
অথচ মুখটা শুকনো থেকে যেত প্রতিদিন
এখানে দেখছে পড়ার ও আলাদা স্পেস
যখন থালায় ভাত দিল স্যার
অমল বললো একটু দাঁড়ান কি করছেন:
খাবার আগে কাক কে দেবেন না ?
ঘাম না ঝরলে পূর্বপুরুষের কথা মনে পড়েনা।
                   ..................

মুখ ফিরিয়ে


হাওয়া যখন মাথা নুইয়ে দিতে চায় ঘাসের তখন ঘাস মুখ ফিরিয়ে নেয় মাটির থেকে।
 গাছের শেকড় মুখ ঘোরাতে চাইলে গাছ অনুরোধ করে না দাঁড়িয়ে থাকার।
 সমস্ত ঘরটা জল জমলে তুমি মুখ ফেরালে আমি বলবো না তোমাকে জাটিঙ্গার কথা।
 আগুনের সাথে আমার সম্পর্ক বহুদিন। 
সাধনার থেকে এক হাত দূরে বসে দেখি বহুদিন হলো মৃতদেহ আর নারীর শৃঙ্গারে তফাত নেই কোনো। 
ঘাম আর অশ্রু মেশানো মদিরা ছুঁয়ে বলি আমি সন্ন্যাসী হতে পারি তবু পূর্বাশ্রম ছাড়িনি কখনো।
               ..............

মঞ্জীরবাগ এর দুটি কবিতা-

ধানগাছ


ধানের মুগ্ধতায় জেগে থাকে আশ্রমিক ঘ্রাণ।
চারটিদেওয়াল,একটি ছাদের আড্ডায় গৃহস্থ ভূমি।
ভূমি মানে বীজধান,গান,বড়উদ্ভিদ মানুষ।
শেষরাতে নক্ষত্রও ঠিকানা হারিয়ে খোঁজে বিছানার তাপ।
খ্যাপাটে বাতাসে মাঝরাত,ভোরের ঠান্ডা শিশির।স্বপ্ন ভেসে আসে অন্তরা গ্রাম।
চোখ গেলো ,নামে পাখি কথামালা বুকে চেপেডাকে,নিষ্ফল স্বর লিপি ।
প্রাণপাখি জন্মসুতোর উৎস,পথরেখা ছুঁয়ে যায় নৈশব্দের ঘোর।
স্তব্ধতাও এক  আলো,নিঃশব্দ লাবণি।
নিভৃত হাওয়ায় দোলে ধান শিশু।
           ..................

পাখি


আকাশের গন্ধ মেখে ঘুরলেই গজায় না ডানা।
ডানার জন্য চাই পরিমন কিংবা পাখি।
পাখি গল্প শুনেছিলাম মেয়েবেলার গানে।
সিন্ডারেলা,সাদা গাউন,কাঁচের জুতো, জুড়িগাড়ি,
একটা কাঁচের জুতো পরার প্রবল চেষ্টা,
আমার পা কেটে যাচ্ছে লাল রক্ত প্রতি মাসে,
ডানানিয়ে জন্মের কথা আবছা মনে আছে।
ছোটো ডানা পিঠের ওপর,
ওড়ার স্বপ্ন,তারপর স্বপ্ন কেটে নিলো কাঁচি,আকাশ,
হায় আকাশ ডানা স্বপ্ন।
চোখের পাতা যেন শুষ্কখরা মাঠ।
হায় পাখি ,তোমারডানায় স্বপ্ন এঁকো,
আকাশের গন্ধমাখা ঘ্রাণ গরাদের মধ্যে থেকে শুঁকি।
                ..............


সম্পাদক: দুঃখানন্দ মণ্ডল    

সহ-সম্পাদক: শ্রীজিৎ জানা

প্রচ্ছদ ভাবনা: বিকাশ চন্দ

ঠিকানা: সুরতপুর,দাসপুর,ঘাটাল,পশ্চিম মেদিনীপুর,পশ্চিমবঙ্গ,ভারত।
যোগাযোগ: ৯৪৩৪৪৫৩৬১৪

Tuesday, 1 May 2018

"ওরা চিরকাল টানে দাঁড়,ধরে থাকে হাল,ওরা মাঠে বীজ বোনে,পাকা ধান কাটে।ওরা কাজ করে নগর প্রান্তরে" e-কোরাস ৭




                      "ওরা চিরকাল টানে দাঁড়,ধরে থাকে হাল,ওরা মাঠে বীজ বোনে,পাকা ধান কাটে।ওরা কাজ করে নগর প্রান্তরে" 


বিষাদ বাঁশি

সুকান্ত সিংহ


নুড়ি বালি ছিল, 
উপরে টাঙানো আকাশও ছিল,
এক টুকরো কাশের বনও ছিল,
শুধু একটা নৌকা আঁকতে পারলেই
ছলাৎছল করে উঠত আমার নিজস্ব নদীটি।
আমাকে দাহের পর কাঠকয়লাগুলো
ফেলে দিয়ো না শ্মশানবান্ধব।
ওইটুকু থাক।

বাকি সব রঙ-তুলি হারিয়ে ফেলেছি।
                  .................


রক্ত

ভবেশ বসু

            
  একটা মোটা দড়িতে আমার ফাঁসি
দম আটকে যাচ্ছে,বেরিয়ে পড়েছে জিভ
চোখে বারুদ থেকেও জ্বলল না
আমি কি আত্মহত্যা করছি
না কেউ গলা টিপে জানতে চাইছে ―
আমার শরীরের লোভ !

মহামান্য আদালত,লোভ কাকে বলে ?
যে পাখি গান গায়,গানই তার সম্বল
খনি হতে যে মুখ উঠে ,টাকা গুনে নতূন পাঁচশো ―
সে তো তারই কোন ক্ষুধার কাছে জমা হবে !
আমি তাদের পিতা ও মাতা বা অন্য কেউ
ফাঁসির দড়ি রাখার অর্থও আমার কাছে থাকে না ।
একটা মোটা দড়িতে আমার ফাঁস লেগে গেছে
তোমরা সব রক্ত ধুয়ে ফেলবে জানি
বিপুল বৃষ্টিতেও যে রক্ত রয়ে যাবে উঠানে
তারা যদি কোনদিন দল বেঁধে আসে ―
আপনার কাছে,কবির কাছে,পৃথিবীর সামনে ?
                      ....................


বসন্ত

সুনীল মাজি


কে কুহু?
সারারাত ধরে ডেকে চলেছে।
পাখিটি কি ক্ষেপে গিয়েছে?
আজ জ্যৈষ্ঠের ষোল তারিখ,তবে কি এই
ঋতুর শরীর ছেড়ে বসন্ত এখনও যায় নি?
পুড়ে যাওয়া রোদ নেই , দগদগে যন্ত্রণা নেই, ঘাস
পাতা মাঝে মাঝে বৃষ্টির স্পর্শে বেশ উজ্জ্বল সবুজ।
পাখিটি ঘুমায়নি সারারাত।আমাকেও ঘুমাতে
দিচ্ছে না।শুয়ে আছি।অন্ধকারে উজ্জ্বল
মুখগুলো ভেসে আসছে-- যারা আমাকে
ভিজিয়েছিল,দিনরাত কুহু ছিল যারা,ডালে
ডালে উড়ে গেছি,কারুর সাথেই বাসা বাঁধা হয়নি।
বিছানায় শুয়ে আছি শরীরে।পাখিটি আমাকে
ভাগিয়ে নিয়ে চলেছে সুরে,স্বরে।চিরায়ত
গন্ধের ভেতর আসি।
প্রেমিকের বসন্ত কখনও কি শেষ হয়,কুহু?
           .................


ঘুঘু

আশিস মিশ্র


সহজ নয় কঠিনতম কথা
নীরবতাই শ্রেষ্ঠতম প্রথা।
লুঠ চলছে লুঠ চলছে জানো
কান ধরলে মাথা আসবে মানো।
তোমার কিছু হয়নি বুঝি বাসু
বেশ তো আছি ভবঘুরের হাসু।
প্রতিবাদীর পাছায় লাথি দিলে
আটকে যাবে নিজের ছোঁড়া ঢিলে।
এভাবেই তো দিন চলছে ভাই
মনের কাছে মনই নিজে নাই।
তোমার বুঝি লাগছে ব্যথা খুব
ভেবেই দেখো কোথায় দিলে ডুব।
দেশের মাথা খারাপ মোটে নয়
জলের মতো লুঠেরা বরাভয়।
তবুও দেখি আঁধার চারিদিকে
আলোর রেখা পড়েছে ছিঁড়ে শিখে।
সহজ নয় সহজ নয় ফেরা
ঘুঘুও তার বেছে নিয়েছে ডেরা।
         ................


দিক চিহ্ন হীন

অর্থিতা মণ্ডল


এই দূরত্বটুকু থাক।যজ্ঞের আগুনের শুদ্ধ ভূমি
আজানু বিস্তৃত ঘেরাটোপে যে শস্যকথা লিখে রাখে, তার ঘ্রাণ আসছে।
মরা ধানক্ষেতে রাত নামে,শীতল

একসময় দূরত্ব ভুলে যায় দূরত্বের গন্ধ
প্রাচীন কথক জীর্ণ মন্দির থেকে বেরিয়ে আসেন।
জোকার মুহূর্ত ঠোঁটের ডগায় চুম্বন নিয়ে সমুদ্রে নৌকো ভাসিয়ে দিল 

শ্রীহীন অপূর্ব জমি। বীজপোঁতা আলো জ্বেলে কম্পাসটি ঘুরছে,ক্রমাগত
                  ..................


যাপন

নিবেদিতা মজুমদার


একটা পাঞ্জাবী কেনা হল
অথবা হাতেবোনা সুতী...

যেখানে মা মা গন্ধ লেগে থাকে,
যেখানে তপ্ত গ্রীষ্ম-চুমুক আমপানায় ,
যেখানে সন্ধের অবকাশে ঠান্ডা ঝড়ের স্রোত-
সারা মাসের ইঙ্গিত জুড়ে রবিঠাকুর
লেপ্টে থাকেন আকাশের চারদেয়ালে
আর তৃষ্ণার্ত বৈশাখ সেজে ওঠে
লাল সেই বাঁধানো খাতার আতরের গন্ধে,
সেখানেই -
ঠিক সেখানেই মা আমার
আমসত্ত্ব শুকোবে বলে
বেত ভরে রোদ ডেকে আনে পায়ের তলায়,
সেখানেই প্রবাসী গবেষক ছেলে,
বৈশাখী সবুজ রঙা নতুন পাঞ্জাবীর
মোড়ক খুলতে খুলতে
বাবার পা ছুঁয়ে নেয়,
ল্যাপটপ স্ক্রিনে!
বাংলায় লিখতে শেখেনি তাই,
যে মেয়েটিকে আজ সোশ্যাল মিডিয়ায়
করতে হয়েছে হাজারো জবাবাদিহি-
এক ঝাঁক প্রজাপতির রঙে মিশে
"এস হে বৈশাখ " বন্দনায়
সাজিয়ে নিয়েছে উত্তরীয়,
সেই নন্দিনী ;
যেখানে বুকের অলিন্দ, নিলয়
আজীবনের আবেগে বিদ্ধ
যেখানে ১লা বৈশাখ এই প্রজন্মে
মন থেকেই একলা হয় না কখনো,
সেখানেই বাঙলায় লেখা হয় -
জীবনযাপন ;
   .........

সমান্তরাল

সুলক্ষণা



কথা বলা হয় না আর
ভাগ হয় না দুঃখ সুখ,
খবর নেই বহুদিন...
টবের গাছে ফুল ধরলো কিনা!
শনিবারে ফিরতে রাত হবে কিনা!
সকালে চা খাওয়া হলো কিনা!
তাই চিন্তারা চুপ করে গেছে মাথায়…
হলুদ শার্টটা আজ রং চটে গেছে নিশ্চয়ই-
নীল শাড়িটা তবুও তোমার আলমারিতেই রাখা…
ছেড়ে যাওয়া সহজ নয় তাদের ,
যারা একসাথে গড়েছে সময়-
তবু
ঠিকানাটা ভুলতে চাওয়ার নেশায় মেতেও,
বিদায়ের চিঠিটা লিখে রেখে দিয়েছি বাক্সেই…
                   .............


ভাঙন অথবা দিন বদলের সূচি

সানি সরকার


যখন যেখানে যাই সেখানেই ঘাপটি মেরে থাকি
আমার চারদিক ফাঁকা ফাঁকা মনে হয়
শীতের শহর কী নিষ্ঠুর, জল তরঙ্গের নিচে
ঘুমিয়ে থাকে আদ্যোপান্ত
রাতের স্তব্ধের ভেতর শুধু ঝিঁঝিঁ ডাক
আর কিছু নয়, একথা বলা যায়না
মার্জিন ভেঙে এ-মুহুর্তে একটি দাঁড় কাক
ডাকছে খুব রিপু করা জামার কাছটিতে-
কে-যে জন্মের খিদে টাঙিয়ে রেখেছে
সিলিঙে, কত চেনা মনে হয়, অথচ
অচেনা কত পরত...
যখন যেখানে দাঁড়াই কেবল ভাঙনের ঠান্ডা প্রবহ
দ্যাখো, নিজেকে খুঁড়তে-খুঁড়তে রোজ এভাবেই তো নেমে আসছি
এ-শহরের জেব্রাক্রসিং থেকে
এম.বি.রোডের মেসবাড়ির বিছানায়।
                     ................


নিশি

মিঠু রাজবৎসী


যখন ছোটো ছিলাম
নিশির কথা শুনেছি কতবার।
পাশের বাড়ির কাকুকে নাকি ধরেছিল নিশি।
ওই পাড়ার অমুককেও।
মাঝে মাঝেই মাকে দেখতাম
গভীর রাতে ঘুমের ঘোরে গোঙাচ্ছে।
ধাক্কা দিয়ে জাগিয়ে দিতাম।
বাবাকেও কতবার।
দেখতাম শীতের রাতেও ঘেমে অস্থির।
দিদিমার কাছে শুনেছি,
তার বাবাকে কোন এক গভীর
রাতে ডেকে নিয়ে গিয়েছিল নিশি,
সে আর ফেরেনি ঘরে ।
এখন আর নিশিরা আসেনা।
ছোটোরা জানেনা ওদের গল্প। 
ওরা কোথায় থাকে এখন!
তবে কোন অভিমানে
নিঃশব্দে সরে গেল ওরা?
      ..............


যুদ্ধ

সঞ্জয় সোম



যুদ্ধ আমার কোনও দিন শেষ হবে না
এই পরিচয়টুকুই থাক
তুমি জানো না
শব্দহীন থেকে বেছে নিই
               সূর্যপ্রতিম শব্দ
হারিয়ে যেতে আসিনি
আমরা বেছে নিয়েছি নতুন সড়ক
বুঝতে পারি আমাদের
অনুভূতিতে আছে সংকীর্ণতা
আমরা সরাতে পারিনি অসহিষ্ণুতা
যুদ্ধ আমাদের চলছে চলবে।
           ...............

ছায়া-মা

দেবাশিস মুখোপাধ্যায়


গাছেদের ছায়ার মায়ায় মা কুড়াই
আঁচলের কথা তাত ঢেকে
আদর জাগাচ্ছে
রোদ্দুর মিষ্টি হয়ে ডেকে
কাঠবিড়ালি
ধীর পায়ে পায়ে ঢুকে আসছে অধীর
আলো বিকেলের দিকে চলে গেলে
নিভে আসা ডানার শরীরে
চুপ ছায়া মা নীড় হয়ে ওম দিয়ে যায়।
              ................


হতচ্ছাড়া প্রেম

কৃপা বসু


আমরা যাদের হাসির খোরাক, বুঝিয়ে দেবো ওদের।
প্রেমের ছায়া বাড়তে থাকে, যায় না পুড়ে রোদে।
চিঠির পাতায় গড়তে হবে, যুদ্ধসাজের বেশে।
জিততে হলে, টুকরো হৃদয় কুড়োয় মানুষ শেষে।
ফারাক অনেক, তার ভেতরেও ফাটল লাখো লাখো।
ভুল দুটো চোখ শ্যাওলা জমায়, কেউ বাঁধে না সাঁকো।
পিছলে যদি হারাই ভয়ে, দুজন এতেই সুখী।
ব্যারিকেডের বাইরে, পরস্পরের মুখোমুখি।
মধ্যিখানের ঘুপচি সমাজ, বিঁধছে পরম্পরায়।
তবুও দেখি ভাঙলে সবাই, নীচের দিকেই গড়ায়
               ...................


স্বপ্নেরা

পারমিতা ঘোষ


স্বপ্ন দেখি হাঁটছি আবার পাশাপাশি
বেহিসাবি আঙুল জড়াক আলতো ছোঁয়া
পুরনো ব্রিজের ধারটা জুড়ে দারুণ সোহাগ
অল্প আলো অন্ধকারের নিবিড় হওয়া।
স্বপ্ন দেখি রাজ্যসীমায় বসন্তরাগ
পলাশ পাড়ায় এক্কাদোক্কা খেলার সাথি
রোদ ভেজানো আচমকা এক সুরের টানে
শুকনো স্মৃতি হিয়ার তারে বুনতে থাকি।
স্বপ্ন দেখি ঘর পেরিয়ে খানিকটা দূর
সমান্তরাল রেললাইনের বেশ চেনা দাগ
ব্যালকনি তে ম্যারান্টা আর মনস্টেরা
বারান্দাতে অর্কিডেরা খুব সুখে থাক।
স্বপ্ন দেখি হৃদয়পুরের একলা গালিব
রোমন্থনের সুখের ফসল হিসেবমাফিক
গুছিয়ে নিই উড়তে থাকা ডায়রি পাতা
একলা ঘরে মন খারাপি বৃষ্টি আঁকি।
              ................


গান

শ্রীজিৎ জানা


দুগ্গারা সব ব্যােমকাই বালুচরী
দুগ্গারা সব উডু উডু প্রজাপতি
ফুটপাতে ফুঁপিয়ে কাঁদে ন্যাংটো শরৎ
জঙ্গলে লাশ বাবলু সোরেন সরস্বতী!
দুগ্গরা সব রেস্টুরেন্টে ভীড়
দুগ্গরা সব জীনস্ টপে হট্লুক্
সামনে বন্যা পেছনে আছোলা বাজারদর
মিষ্টি সোনা ভাগ করে খাও হাওয়ার মিটাই সুখ!
দুগ্গরা সব মন্দারমণি
দুগ্গরা সব বকখানি চাঁদিপুর
পাঁচশ টাকায় পণ্য হচ্ছে ফর্সা দুগ্গা
বাইক চড়িয়ে নিয়ে পালাচ্ছে ম্যাচো মহিষাসুর!
                 ..............


সাঁঝবাতি আলো

দুঃখানন্দ মণ্ডল


আবদ্ধতা এঁকে নিচ্ছে অন্ধকারের ছবি
অন্ধকার ভেদ করে সৃষ্টি কথা বলে
সৃষ্টি উঁকি দেয় আলোর নদীর দিকে।
নির্মাণের শেষে ভাঙা গড়ার ইতিহাস
জানা হয়নি; শেষের পর কি বাকি থাকে
চাঁদের গায়ে লেখা হয় পিয়াসি মানুষের দিনযাপন।
অন্ধকার সব বাধা অজানার আহ্বানে হারিয়েছে
ক্লান্ত পথিক কুড়িয়ে নেয় সাঁঝবাতি আলো
আবদ্ধতার আঁকা ছবি দেওয়ালের ওপ্রান্তে।
সাঁঝবাতি আলো ডুব দেয়
দৃষ্টি কালো ছায়া পথের দিশারী
একটা নদী মনের গভীরতা মেপে নেয়।
       ................


সম্পাদক: দুঃখানন্দ মণ্ডল    

সহ-সম্পাদক: শ্রীজিৎ জানা

প্রচ্ছদ ভাবনা: Web

ঠিকানা: সুরতপুর,দাসপুর,ঘাটাল,পশ্চিম মেদিনীপুর,পশ্চিমবঙ্গ,ভারত।
যোগাযোগ: ৯৪৩৪৪৫৩৬১৪


Monday, 2 April 2018

চৈত্রের ঝরা পাতা;e-কোরাস ৬

    









কবিতার এমন একটি রূপ,যার মানে বিভিন্ন ভাবে প্রকাশ করা যায়।যখন বিষয়কেন্দ্রিক                                                                         

কবিতা কবিরা লিখছেন তখন ভাষাকেন্দ্রিক ভাবে তার ভাবের পরিবর্তন হয়।সেই ভাব                                                                          কবিতাকে কবিতাময় করে তুলে।আসলে কবিতা হল স্বতন্ত্র, যেমন কবি।কবিরাই পারেন                                                                        কবিতাকে স্বতন্ত্র করতে।আসুন কবিতা পড়ি।
                                                                                                                                                 

                                                                                দুঃখানন্দ মণ্ডল

                                                                                  সম্পাদক - কোরাস




মনোতোষ আচার্যের তিনটি কবিতা

ছোঁয়া

শব্দকে ছুঁয়েছো কিংবা 
ছুঁতে চেয়ে অক্ষর বাউল
কালো মুখ সরণি ডিঙিয়ে
এই তো এলাম
শব্দব্রহ্মে আদুরে আভাস
উচ্চারণে তরঙ্গ তোলে
শরীরী বিধেয়...
     ..................

তামস

হিংসা প্রাগৈতিহাসিক
স্থলে জলে জীবন বিকার
লোভ অতীন্দ্রিয়
বাসনা জারিত উপকথা
অহং মোহোন্মত্ত
অন্ধ তামস আশ্রয়
উপাধি স্থূলতা মাত্র
পাঁচ লোকে বাগযন্ত্রে বয়।
         ..................

কুহক

মহার্ঘ আছে যা কিছু
চিতল শরীরী পটমায়া
তোমাকেই ছুঁয়ে আছে
নাগরিক পাঁক আর ধূলি
মেঘজালে ডোর কাটে
তুচ্ছতম জীবনের তিথি
অম্বুবাচী স্নান সেরে কুহকিনী
উপপাদ্য আঁকিবুঁকি
কেটে গেল
সেলফিমুখর রোদবেলা...
          ................. 

লক্ষ্মীকান্ত মণ্ডল এর তিনটি কবিতা


তিতির

হৃদয়ের ভেতর যে সব সূর্যমুখী ফুটে আছে,
তার নিঃসঙ্গ দোলায় কয়েক জোড়া তিতির নিঃশব্দ
জমির পাড়ের গন্ধ জুড়ে পঞ্চশর,
বৈধতা নিয়ে কোন প্রশ্ন ওঠে না আর
এখনো সূর্যের আলো ছড়িয়ে আছে
কামুক ঢিবি থেকে প্রশান্ত বিল -
           ...................

রিক্ত

পত্রমর্মরের কাছে অভিমানী আগাছা,
দোষ কারও নয়, এটা বোঝাতে পারিনা কখনো,
বোবা পুরুষটির সারা গা'য়ে কর্কশ
রিক্তমুখ ঝোপের মাঝে হারিয়ে যেতে যেতে তুলে নেয়
এক গুচ্ছ ভাঁটফুল --
       ................

রিপু

প্রতিটি কালের মাঝে একটি পদ্মাবতী ;
পদ্মানদীর মতো অন্তর্লীন পঙ্ ক্তি
তার বিভঙ্গে কিছুটা মেঘ,
তবুও বাকল ছাড়ানো অর্জুনগাছ থেকে
ভাবনা সরতে চায় না কিছুতেই
প্রজাপতি উড়ে গিয়ে বসে বোরো ধানের
সবুজ রিপুর উজ্জ্বলে-
         ................. 

তাপস বৈদ্য এর তিনটি কবিতা--

হোয়াটসঅ্যাপ

কলেজ ফেরত মেয়ে না বুঝেই হোয়াটসঅ্যাপে জুড়ে দিল তার নতুন বন্ধু-কাকুর সাথে
আর অচিরেই টের পাওয়া গেল তার
নতুন বন্ধু-কাকু আসলে আর কেউ নয়
আমার কৈশোর ও প্রথম যৌবনের
একমাত্র ফ্রেন্ড-ফিলোজফার ও গাইড
মধ্য-যৌবনের বেলোয়াড়ি ঝড়ের তোড়
কখন যে কোথায় ভাসিয়ে নিয়ে গেল
দু-জনকে কতকাল কোন বিচ্ছন্নলোকে...
হে মহাবিশ্বব‍্যাপী অন্তর্জালিক প্রযুক্তি
মিলনের দেবতার মতো এক লহমায়
পৌঁছে দিলে আমার হারানো মেয়েবেলায়
ঈষৎ পাপবোধ হলেও মেয়ের কাছে এখন হোয়াটসঅ্যাপের পাঠ নিতে থাকি...
               ................... 

ম‍্যাসেঞ্জার

ডাকহরকরাকে হারিয়ে দিয়ে রানার
এসে মিশে গেছে ডাক-পিয়নের ব‍্যাগে
হে বার্তাবাহক দেবদূতের মতো
দাঁড়াতে এসে আমার প্রেমের আগে
বিকেলবেলার কত যে রং ছিল
বনশ্রীদির গানে মাতোয়ারা ভুবন
চোখের জলে ঘেঁটে যেত প্রমলিপি
সন্ধ‍্যে নামত বিরহ বিধুর সঘন
অনেকটা হলো দুপুর গড়িয়ে নামে
ঘরকন্নার কাজের ফাঁকের সই
খবর-শব্দ বেলা-অবেলায় বাজে
অনেক হাতড়েও ডাকের স্মৃতি কই
দু-একজন না-দেখা বন্ধু আজ
মনের ঘরে কড়া নাড়ছে জোর
ভার্চুয়াল জগতে নিয়েছি ঠাঁই
অ্যানড্রয়েডে মিশে আছি ঘনঘোর
            ........................ 

টুইটার

এখনও সেলিব্রেটিরাই করে টুইট
আমজনতা বন্ধু পায় না সেথায়
অ্যাকাউন্ট খুলেও অবধারিত কুইট
মনের আরাম পাবে বলো সে কোথায়
কথা চলে একান্ত ব‍্যক্তিগত
অন্তর্জালে জড়িয়ে থাকে হিয়া
স্মার্টফোনে আজ সকলেই অনুগত
একের পাশে দুয়ের পরকীয়া
যোগাযোগে ঘটে ঘোরতর বিপ্লব
মুখ গুঁজে আজ ছোটোবড়ো একাকার
শুধু কি অন‍্যায় ঝরে গেলে পল্লব
জনমতে কাঁপে ভুবনগ্রামের সংসার
প্রতিরোধ হোক উঠুক প্রতিবাদ
সামাজিক এই মুক্ত সভাঘরে
সবাই রাখুক নিজস্ব মতবাদ
বিশ্ব বাঁচুক স্নেহ-মায়া-আদরে
         ...................

বনশ্রী  রায়  দাস-এর তিনটি কবিতা---

ঝুলন্ত কার্নিস

খোলা জানালা একটি হলুদ পাখি।
একটাই  দিগন্ত ।
হেমন্তের সূর্য  উঠেছে
ছেঁড়া ফাটা পাতার আড়াল-----
আইসবেরি প্রেম রুক্ষ শীতলপাটি।
নিবিড় মধ্যাহ্ন
তোমার আঙুলের  স্পর্শ তাপে
                    খসে   পড়ছে
নবজাতক— উপাখ্যান ।
একটি জন্ম মুহূর্ত সমস্তটা সাদা পাতা,
মৃত্যু রেখে যায় বর্ণিল ক্যানভাস ।
চোখ তোলে ঝুলন্ত কার্নিস
আমি তার নাম রেখেছি ‘দুঃখ জাগানিয়া‘ ।
            ................

ঘাস ফুলের গন্ধ

আলো-অন্ধকারের আশ্চর্য খেলার  নাম মিলন
তোর সঙ্গে  আলো-ছায়া খেলা আমার আজন্ম
সে কথা জল রং কিংবা আহ্নিক  গতির মতো
স্পষ্ট হয়তো জানে ধ্যান গম্ভীর দিগন্ত ।
দাবার  চাল দেওয়া জন্য গুটি সাজাই
তোর শরীরময় ঘাস ফুলের  গন্ধ, অবগাহনের
ভাষা শেখায়। সেই ছোট্ট  বেলা আর
বিণাবাদিণীর  চরণে হাতে খড়ি দেওয়ার মতো।
              ....................

পতঙ্গভূক

রেণু মাখামাখি পতঙ্গভূক ডানা, 
নীড়ে ফেরা পাখিদের  রাত্রি-রমণ দাবি রাখে 
অনেক  কিছু আমার নিষ্কাম রাত্রির কাছে।
অন্ধকারের  করাল দাহ জাগিয়ে  রাখে তোকেও
খুলে যায় স্মৃতির লকার...
তোর গাওয়া দু-কলি গান তখন চাঁদফাটা তৃষ্ণা
জ্যোৎস্না ভেজা আঙুলে জড়ায় স্থলপদ্ম।
ঠোঁট-কথা সুর তোলে তোর কৃষ্ণকলি উঠোনে
কনসার্ট বাজে বৃষ্টির খসে-পড়া  ছন্দে।
হাইতোলে আমলকি ফুল, দুর্বাবনে শিশির-দানা
নীল সূর্য নামে টলমল পায় ঘুম ঘুম বিছানায়।
               ......................


বিকাশ চন্দ এর তিনটি কবিতা--

অনুচ্চারিত শব্দের কোলাহল ১

ডেকেছিল কোকিল বসন্ত বৌরি
খাঁ খাঁ মাঠ চিরে হাটের রাস্তা বাচ্চা কাঁখে মা
মা ছেলের চোখে খিদে আর তেষ্টা
সারা শরীরে পোষ্য অন্য ভারতবর্ষ
অথচ ডানে বামে ঝোপে ঝাড়ে
না চেনা পাখিদের সাথে
কুঁড়ি আর ফুলের নীরব উচ্ছ্বাস
যেমন নিঃশব্দ রাত্রি নামে
আলো আসে
মেঘ বর্ষা আসে অবিকল।
কিছু ক্রোধ কিছু ক্ষমা হায় শরীরী প্রতিমা
প্রত্যাশাহীন প্রান্তিক পাড়াগাঁ তেমনি চঞ্চল
বারোমাস অক্ষত হাসি মুখ সুখ দুখ জল কাদা মাটি
শস্য জন্ম কথা জেগে পরিপাটি।
          ...................

অনুচ্চারিত শব্দের কোলাহল ২

পড়ে আছে উদোম শরীর
হা মুখে ঘুরে বেড়ায় মাছি
উষ্ণ ঠোঁট ছুঁয়েছিল তবুও
এসিডে পোড়ে মুখ---
ভেতর শরীরের ধমনী ধারা
এখন বাইরে শুকনো আলকাতরা ছোপ,
পথে ঘাটে ঘুরে বেড়ায় এখন ও ছায়া শরীর
ভাষা হারানো হা মুখ দেখে বলে না কেউ
কোথাও তো ছিল হৃদয়ের দাগ
সমস্ত অনুযোগ জানে পাঁজর কষ্টিপাথর।
অক্ষত সময় ছিল কি কখনো
ক্ষয়া শরীর কাল জানে নীরব অবক্ষয়
যা কিছু দুর্লভ পেলব অনুভব
জ্যোৎস্নার মায়ায় কিংবা জলে ভেজা শরীর
দিব্যি ফেলে যায় গোপন সঞ্চয়।
             ................

অনুচ্চারিত শব্দের কোলাহল ৩

ফিরে আসার জায়গায় ফিরে আসতে হয়
যা কিছু অভব্য দাঙ্গবাজি সে তো পথে ঘাটে---
শুনশান পথ ঘাট হলে ঈশ্বর কথা কয়
প্রসন্ন করুণা হাসি ধারে নয় ভারে কাটে।
কী কপালের ফের আছেন পরমানন্দে
অদল বদল মুখ চেনা ভার
সব মুখ যেন যীশু
            বলি শোন
             যা বলি বরং তাতে মন দে---
             অকথা কথায় কেবল ঘর বার
             জানে কি সদ্য শিশু !
যে কথাটা সহজে শেখার সেই কথা টা বলো
বললেই তবে শ্বাস পড়বে--- গাছের পাতা নড়ে----
বাঘের দেখা দরকার নেই থাবার গল্পে চলো,
কী খাদ্য অজানাই থাক উঠোনে পাত পড়ে।
               .................

বিশ্বজিৎ কর এর তিনটি কবিতা----

আমার বিপ্লব

অবচেতন মনে তোমাকে মনে করার ফাঁকে,
মহার্ঘ্যভাতা উঁকি মারে...
সাঁওতাল রমণীর খোঁপায় লাল পলাশে বিপ্লব খুঁজি,
ইনকিলাব জিন্দাবাদ!
দলবদলে সরগরম,
তুমি উপন্যাস পড়েই চলেছ!
সুনীলবাবুর 'মনের মানুষ'!
       -----------------

ধারাবিবরণী

দিনগুলো কখন যে চলে যায়,
ভবিষ্যতের দিকে চেয়ে-
মাসিক উপার্জনের হিসাব,
একটু আড়চোখ-কিছু ভাবনা!
ফিসফাস হজম,স্রোতের ধাক্কায় এদিক-ওদিক,
কবিতার সাথে প্রেম,বাবুগণের লেকচার-
উপন্যাসের পাতা ওলটানো!
হৃদয় নিয়ন্ত্রণে ওষুধ গেলা,
নিয়মিত চুমু খাওয়া-ফেসবুকে!
মাঝে মাঝে জানতে চাওয়া-স্কোর কত?
উইকেট পড়ে,রানও হয়!
ভাষ্যকার ক্লান্তিহীন!
     -----------------

নীরবতার কথা

আমার অনুভূতির অশরীরী আত্মাই-
তোমার নীরবতা!
আকাশও তার বুক চিরে ফেলে-আলো দেখায়!
আঁচল-ভাঙ্গা গন্ধে সেই
ছেলেবেলাকার হাতছানি!
সিরিয়ালহীন সন্ধ্যেগুলোতে-
তেলমুড়ি-হাতেগড়া রুটি.....
নীরবতা তখন কথা বলতো!
অমল ছিল,সুধা ছিল,ডাকঘরও ছিল-
হ্যাঁ,নীরবতাও ছিল!
তবুও কত কথা,কত আবেগ!
আজকের নীরবতা অস্বস্তি,আশঙ্কার চাপে নুয়ে পড়েছে!
                ..................

মুনিরা আখতার এর তিনটি কবিতা----

অনুভবের পেছনে

হয়তো আবার পিছোতে পারি
খুনের গায়ে ঘেঁষতে পারি,
হাতের কাছে আঁকার রঙে প্রিয় রঙ মুছতে পারি ।
ব্যাথা নামক ছবি বদল--
আবার লুকোয় আশাবাদী
যুগের দাগে পিছন ফিরে
মুক্ত আমি, ভুক্ত জানি ।
      .................

আদিমকালের কবিতা

রাতের পথে জেগে আছে যারা,
রক্ত জমে বায়ুদূষণ,
শ্বাস নেই সেই বিষম লোভী
তোমার এবার পূর্ণ হলো জগৎছবি।
একসাথে সূর্যোদয়
একসাথে অস্ত যায়
নাটক জানি জীবনছবি
রক্তে আছে তরল সব-ই
পাতায় পাতায় ছায়ার মত
মনের মত আকাশ দেখি ।
উঠছে বায়ু ধোঁয়ায় ভরা
আদিম পশু আদিম আলো
আদিম কালেই লেখা হলো ।
            ..............

ইতি, আমার আবিষ্কার

টিক্ টিক্ শব্দটা প্রিয়।
মানুষের গালিগালাজের বাইরে
প্রাকৃতিক খুনের বাইরে রক্তটা প্রিয়।
বন্দিদশা চলছে বলেই জানালায় দাঁড়াতে হয়---
আকাশের দিকে তাকিয়ে রাতের তারায়
জোঁকের মত চুষে নিতে হয় পরিবেশের
হজম করা জঞ্জাল।
ফিরিয়ে দিতে হয় সেই একই যুক্তাক্ষর।
গোলাকারে সে কামনা করে,
বিসর্গ লাভে উৎসাহ জোগায় মাতাল হয়ে
প্রেমিকা তাকে ঘৃণা করে
প্রেম তাকে বোতল দেয়
অভিনয় তাকে ঘৃণা করে
কাশি তাকে প্রেরণা দেয়।
          .................


জয়া গুহ (তিস্তা) এর তিনটি কবিতা---

অনির্বাণ

ফুলির মা পুকুর ঘাটে লুকিয়ে দেখায় পিঠের কালশিটে,
তিনদিনে দগদগে ঘা
দিদিমণি আজ কলার দেওয়া ব্লাউজ পরেছিল
ঘাড়ের কাছে,দাঁতের  দাগটা দেখে ফেলেছিলাম আচমকাই
ইমদাদুল দাদা আসরে বল্ল,
মেয়েদের পড়তে জানলে নাকি এক খাতা ভর্তি কাব্যকথা হয়
কেউ পড়তে জানে না, তাই অমন সাদা পাতা বেবাক ফরফর করে
রাত গভীর হলে আমিও আড়াল করি খোকার দু-হাত আঁকড়ানো মাতৃস্তন
বিছানার সম্পর্কে স্বামী-স্ত্রীর দাম্পত্যে
ওটুকুই আমার আপত্তির বিষয় আজকাল
সারা দুপুর দোলনা দোলে আমার দু-দিক খোলা বারান্দার এমাথা-ওমাথা
চোখ লেগে আসে,তাও কাঁথার ফোঁড় তুলতে তুলতে হাই তুলতে তুলতে অবাক চোখে দেখি তার বেড়ে ওঠা
কেবল আমার সমস্তটুকু থমকে যায় তোমার চৌকাঠে, অনির্বাণ!
আমার পারা, না-পারার দোহাই
আমার অপারগতার দুর্দমনীয় বেড়াজাল সত্ত্বেও কিভাবে গোপনে
বেড়ে উঠছ তুমি ক্রমশ
আমার সিঁদুর-লাল-টিপ দেখে কিভাবে লিখে ফেলো
গোটা সংসারী-কথার আনাচকানাচ
না-হওয়া বাসরের আঁচ লেগে জ্বলেপুড়ে যায় আমার ভেতর-বাইরে
কিভাবে না-হওয়া উপন্যাসের নায়িকা করে তোলো এই চারদেওয়ালের আটপৌরে বেভুল পথের মেয়েমানুষকে?
এযাবৎ  যন্ত্রণার পরতে পরতে আজ উদ্বৃত্ত কান্নাজল শুধু তোমার কথা ভেবেই
শুধু তোমার কথা ভাবতে ভাবতেই শেষ ওং -তৎসৎ..
           ....................

প্রেম ও পুরুষ

আসলে আমি এখন যা ভাবছি, সে ও কি তাই ভাবছে
যেমন আমি ভাবছি উষ্কখুষ্ক  চুলে আঙুল চালাতে চালাতে অবাধ্য কিছু মশাদের অস্থিরত্ব শান্তিতে থাকতে দিচ্ছে না তোমায়
এই রাত, শুনশান ঝিঁ ঝিঁ র আওয়াজ গ্রাম ঠেলে, টিমটিমে কষ্ট করে জ্বলে থাকা আলো ঠেলে তোমাকে উগ্র করে তুলছে
খোলা হাত,বড় জোর টিকে থাকা স্যান্ডো গেঞ্জি, শর্টস
বিন্দু বিন্দু ঘামের মত ঘিরে থাকা ক্লান্তি, রাতপার করার কলেজ-যাবৎ বিদঘুটে অভ্যাস ডিঙিয়ে আমার কথাই কি ভাবছো?
যেমনটা আমি ভাবছি,স্বামীর বুকে মুখ গুঁজে কাটাতে কাটাতে,ছেলের মুখে পাকানো ভাতের দলা ঠুসে  দিতে দিতে
একলা রাস্তা হাঁটতে হাঁটতে
আয়নার সামনে আপাদমস্তক নিজেকে খুঁটিয়ে দেখতে দেখতে
কোথায় কতটুকু মেদ-বাহুল্য ভাবতে ভাবতে
তোমাকেই ভেবে চলেছি বয়ঃসন্ধি ইস্তক
আর তুমি! ছাইদানিতে অবশিষ্ট সিগারেট ঠেসে ধরে আছ
নেভানোর আপ্রাণ চেষ্টা নিজেকেও
আটকে রাখার যাবতীয় সংগ্রাম পুহিয়ে ভালোবাসার গোপন কৌশল তোমার করায়ত্ত
শেষ রাতে নিয়ন্ত্রিত শ্বাস আমাদের বাধ্য করেনি অবশ্যম্ভাবী গর্ভসঞ্চারে
          ..................

আমাদের ধুলোবালি সংসার

এখানে রাখা আছে
মায়ের খুঁটিনাটি
ছড়ানো পান-সরা
দাদার খুনসুটি
এখানে ভোর হয়
মোরগঝুটি নাড়ে
মায়ের লাল টিপে
সিঁদুর ঝুরঝুরে
নাকের বরাবর
লুকোনো কত কথা
বাবার পাঞ্জাবী
গেঞ্জি ফুটিফাটা
দেওয়াল নোনা ঝরে
আলনা নড়বড়ে
তক্তা ক্যাঁচক্যাঁচ
বালিশ ও কম পড়ে
পাঁচালী-ব্রতকথা
সিংহাসনে আছে
মায়ের নাভি-ছাই
নদীর জলে ভাসে
পড়েছে মনে মনে
বছর পঁচিশ আগে
শাঁখে ফুঁ মা আমার
সন্ধ্যা প্রদীপ হাতে
আমিও ফ্রকে, খুকি
সহজপাঠে, সবে
দেখেছি ভালোবাসা
না খেয়ে গান হতে
দাদার সবেই বারো
আমার আট মতো
ভাতের সাথে আলু
সেদ্ধ -ডাল হত
সেদিন গুণগুণ
গানের কলি বেয়ে
ঝরতো জ্যোৎস্না
মায়ের কোল চুয়ে
আজকে বিছানায়
জানলা  কাচ ঘেষে
চলকে চাঁদ নেমে
বল্ল ''মা এসেছে''
  ..........

স্বপ্নময় এর তিনটি কবিতা---

অসংজ্ঞায়িত

যদি কোনো পাহাড়চুড়ার থেকে
দূরের কুয়াশায় জ্যোৎস্নার দিললগি
চাঁদের মেঘের হাতে একটু একটু অনাবৃতা হওয়া দেখে
তোমার মানসীর বিধিবদ্ধ পুরুষের হাত মনে পড়ে,
যদি তার শীৎকার অরণ্যের ফিসফিসানিতে 
তোমার আত্মহননের ইল্ তিজা বয়ে আনে,
তবে হে মুসাফির,
নিজেকে প্রেমিক জেনো,
জেনো তুমি সেই আসাগর তৃষ্ণাকে ছুঁয়েছো
লোকে যাকে ভুল করে ভালোবাসা বলে...
                .................

দূরের মানে

দূর মানে কি নেই আর পাশে, কাছে?
সর্ষক্ষেতে কুয়াশা লেগে আছে।
বসন্তদিন, তাও ঠান্ডা পড়ে
কেমন একটা শিরশিরে ভাব ধরে
তোমার ছোঁয়া নেই বলে ভয় লাগে
ফুটবে তো ফুল এই বসন্ত রাগে?
দূর মানে কি মনের ঘরে দাঁড়ি?
পালটে নেওয়া কাপড় তাড়াতাড়ি?
ভাল্লাগে না বলেই কাঁপা ঠোঁট
কি যে ভালো, কোথায় যে তার খোঁজ?
খুঁজতে খুঁজতে আলো ফুরিয়ে আসে
দূর বোঝা যায় নিশ্বাসে- প্রশ্বাসে।
দূর মানে কি? দূরত্ব প্রত্যাশা?
নাকি মনে বাবুই পাখির বাসা?
জোনাক ঠোঁটে আঁধারেও ঘর ফেরা
ভালোবাসার আগুনের ওম ঘেরা।
দূর আসলে ফাগুন হারিয়ে পাওয়া
ভয়ে ভয়ে জড়িয়ে ধরতে চাওয়া।
           ...................

চলতে চলতে

আমি যাকে মনে ভালোবাসি
যে আমাকে মনে মনে চায়
আমাদের লুকোচুরি খেলা
ঝাউপাতা সূর্য ঘোড়ায়।
দূরে দূরে ঢেউ ওঠা দেখি
ভেঙে পড়া ধুলো আয়নায়
কি একটা বাকি থেকে গেলো
অনাহত নাদই বোধায়।
যা যা কিছু অভ্যাসবশে
যাকে বাঁধি মুঠিগতপ্রায়
তারও দেখি ছায়া পড়ে আছে
ভুলে যাওয়া শিমূলতলায়।
প্রত্যাশা আর পুষি না
পাঁজরার খাঁচাখানা খুলে
যে যাওয়ার সে তো চলে যাবে
বিভাবের সলতেটা জ্বেলে।
শুধু যদি সেটুকুও জ্বলে
আড়চোখ আনমনা আছিলায়
অভিযোগে প্রেম সুদে বাড়ে
আসল তো কবেই দেনার দায়।
বাঁধা পড়ে থাকি,ভাবি মু্ক্তি
ফাগ আর ফাগুনের গোধূলি
নেমে আসে,পড়ে থাকে নোটবুক
সান্ত্বনা মেখে  রঙ-তুলি।
        ...............

মঞ্জীর বাগ এর তিনটি কবিতা----

চন্দ্রাবলী ৩

চাঁদ সেই রাতে ভেঙে গুঁড়ো গুঁড়ো।
আমরা সেই চাঁদ মেখে চাঁন্দ্রেয় আলো।
জীবন্ত জিভ তোমার আমার তীব্রতর উষ্ণতায় শুষে নেয় তিন জন্মের বিষাদ।
হে নীল চাঁদ এই নদীতীর্থে তীব্র অবগাহন সেরে সাগরিকা গান গায় বিরহহীন মিলনের।
কত দুরে আছ তুমি গান যৌগপদ্যের মতো!আজ চাঁদরাতে স্বপ্নের মতো আশ্লেষে তোমাকেই খুঁজি নীলজল।
আজন্মের বাসনা আগুন নয়, আলো হয়ে জ্বলে।
              ...................

অসময় সময়

আমাদের স্বপ্ন ছিল চাঁদের আলো কিংবা অন্ধকারে অক্ষরের স্বপ্ন এঁকে যাব।
আগুনে পুড়েছি, পুড়ে গেছে কথা ঘ্রাণ।সমাজিক প্রাচীর ভিন্ন করেছে আমাদের শ্বাস।
তবুও  তোমার বুকে আমার স্পন্দন,আমার শ্বাস তোমার অনন্ত বিশ্বাস,হে চাঁদ।
সে রাতে আমার শাড়ি হারিয়ে গেছে বৃন্দাবনে,আজ চাঁদ আমার শাড়ি,
কত আগুন শ্লেষ জ্বলে উঠল আমাদের মাঝে,নিবেও গেল! আমরা কেবল আলো খুঁজি অক্ষরে,
দুরন্ত দামোদর প্রাণ ছুঁয়ে আমায় সাগর বলে ডাকে,
আমার শ্রীফল ছুঁয়ে জেগে আছে কালো তিল আমার একান্তে,জেগে আছে আকাশের অরুন্ধতি,অবিনাশী আলো।
এ অসময়ে স্নান সারি অশান্ত দুরান্ত ঝরণায়,  
সূর্য দেখুক এক চাঁদ কিংবা কবির সাথে ভিজছি খুব সময়ে অসময়ে।
                 ..................

শ্রীফল

আকাক্ষায় লেখা থাকে আস্বাদ ঘ্রাণ।
জন্মলগ্নের প্রথম পলে ঠোঁট রাখি,
অমৃতের ফোঁটা বিন্দুবিন্দু ঝরে পড়ে,
এ আস্বাদ নিরাপত্তার নাম, নিরাপদ ঘ্রান  মা বলে ডাকি, 
শ্রীফল উষ্ণ জেনে ওম পাই,
কলাবউ ঘোমটার আড়ালে জমিয়ে রেখেছে প্রেম,
রাধা শ্রীফলে গীতগোবিন্দের শ্লোক আঁকে প্রেমিক নখর,
সাগর জলে ভেসে যায় মোহনা,
শ্রীফল ছুঁয়ে কালো তিল,
আকাশে একলা অরুন্ধতি,
প্রেম লিখছে কবি,একান্তে অঘ্রাণে ,
লিখছে ঈশ্বরীর পুর্নজন্ম কথা।
                ...................


সম্পাদক: দুঃখানন্দ মণ্ডল    

সহ-সম্পাদক: শ্রীজিৎ জানা

প্রচ্ছদ ভাবনা: সুকান্ত সিংহ

ঠিকানা: সুরতপুর,দাসপুর,ঘাটাল,পশ্চিম মেদিনীপুর,পশ্চিমবঙ্গ,ভারত।
যোগাযোগ: ৯৪৩৪৪৫৩৬১৪

পশ্চিম মেদিনীপুরের গাজন ও গাজন মেলা - পর্ব ১০

  গ্রামীণ গাজন উৎসব, দাসপুর ২ বঙ্কিম মাজী  বাংলায় গাজন উৎসব শব্দের অর্থ গ্রামের জনসাধারণের উৎসব। এই উৎসবে যারা অংশগ্রহণ করেন আমাদের গ্রামীণ...